ক্যাসপারস্কি: প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি ও হয়রানি বাড়ছে, সচেতনতার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ

ডিজিটাল নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থাকলেও অনেকে বুঝতে পারছেন না সমস্যার গভীরতা

অনলাইন জগতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে যে মানসিক চাপ, নজরদারি বা হয়রানি চালানো হচ্ছে, সেটিকে এখনো অনেক মানুষ গুরুতর নির্যাতন হিসেবে দেখছেন না। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান Kaspersky জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন একটি প্রবণতা উঠে এসেছে যেখানে বহু মানুষ প্রযুক্তি নির্ভর হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, কিন্তু একই সঙ্গে বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকার কথাও স্বীকার করেছেন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি কোনো না কোনো ভাবে এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপব্যবহারের ধরনও বৈচিত্র্যময়। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, অনলাইনে অনুসরণ করা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তি তৈরি, গোপনে নজরদারি চালানো কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিক হয়রানির মতো কর্ম কাণ্ডকে অনেক সময় সাধারণ অনলাইন আচরণ হিসেবেই দেখা হয়। ফলে ভুক্তভোগীরা অনেক ক্ষেত্রেই সহায়তা চাইতে দেরি করেন।

প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি

গবেষণায় উঠে এসেছে সচেতনতার বড় ঘাটতি

University College London এবং ক্যাসপারস্কি যৌথভাবে প্রযুক্তি নির্ভর নির্যাতন নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ চালাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, টেক ফ্যাসিলিটেটেড অ্যাবিউজ শব্দটির অর্থ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষের। অথচ জরিপে অংশ নেওয়া ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তর দাতা জানিয়েছেন, তারা প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক উপায়ে হয়রানির ঘটনাও সামনে এসেছে। অনলাইন হ্যারাসমেন্ট, স্টকিং, ডক্সিং এবং সামাজিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করার মতো আচরণ একসঙ্গে ঘটেছে অনেক ক্ষেত্রে। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অভিজ্ঞতা প্রায়ই অপ্রকাশিত থেকে যায়, কারণ ভুক্ত ভোগীরা নিজেরাও নিশ্চিত হতে পারেন না তারা নির্যাতনের শিকার কিনা।

Read More  ফ্রি রাউটারসহ ওয়্যারলেস ইন্টারনেট দিচ্ছে Robi WiFi

স্টকারওয়্যার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ক্যাসপারস্কির বিশ্লেষণে স্টকারওয়্যার কে বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি এমন ধরনের সফটওয়্যার, যা গোপনে কারও স্মার্টফোনে ইনস্টল করা হলে ব্যবহারকারীর অবস্থান, কল, মেসেজসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সফটওয়্যার সাধারণত ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে এবং অনেক ভুক্তভোগী দীর্ঘ সময় বুঝতেই পারেন না যে তাদের ডিভাইস নজরদারির আওতায় রয়েছে।

ক্যাসপারস্কির গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিমের গবেষকেরা জানিয়েছেন, স্টকারওয়্যার খুব সহজে ডাউনলোড ও ব্যবহার করা যায়। তাই সন্দেহ জনক আচরণ বা ডিভাইসের অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত করার বিষয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের যৌথ উদ্যোগ

প্রযুক্তি নির্ভর স্টকিং ও ডিজিটাল হয়রানি মোকাবিলায় ক্যাসপারস্কি কোয়ালিশন অ্যাগেইনস্ট স্টকারওয়্যার এর সহ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করছে। এই জোটে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান, গবেষক, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন যুক্ত রয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো স্টকারওয়্যার শনাক্তকরণ, ঝুঁকি কমানো এবং ভুক্ত ভোগীদের সহায়তার পথ সহজ করা।

এদিকে ২০২৬ সালে আয়োজিত হতে যাওয়া ইউসিএল টেক অ্যাবিউজ কনফারেন্সে স্টকারওয়্যার শনাক্তকরণ নিয়ে বিশেষ কর্মশালার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ক্যাসপারস্কি। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার, অস্বাভাবিক ডিজিটাল কার্যক্রম নজরে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিরাপদ সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

[ সোর্স : ঢাকা মেইল ]

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Disclaimer

We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ,হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

হাই! আমি ইমন। প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।

Leave a Comment