গরম বাড়লেই কেন সবাই এসির রিমোটে সবচেয়ে কম সংখ্যা খোঁজেন
তাপ প্রবাহের সময় ঘরের ভেতর দ্রুত ঠান্ডা পরিবেশ তৈরি করতে অনেকেই এসির তাপমাত্রা একদম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে দেন। বাইরে যখন তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে, তখন ঠান্ডা বাতাসের চাহিদাও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কিন্তু যেকোনো ব্র্যান্ডের এসি ব্যবহার করলেই দেখা যায়, ডিসপ্লেতে সর্বনিম্ন সীমা হিসেবে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসই দেখানো হয়। এর নিচে নামানোর কোনো অপশন রাখা হয় না। এটি কেবল সফটওয়্যার সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এসির ভেতরের প্রযুক্তিগত কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বিষয়।
এসির ভেতরের কোন অংশের কারণে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে
একটি এয়ার কন্ডিশনারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর মধ্যে ইভ্যাপোরেটর অন্যতম। এই অংশের ভেতর দিয়ে রেফ্রিজারেন্ট বা কুল্যান্ট প্রবাহিত হয় এবং সেটির মাধ্যমেই ঘরের বাতাস ঠান্ডা হতে থাকে। তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকলে ইভ্যাপোরেটরের ভেতরে খুব দ্রুত বরফ জমে যেতে পারত। তখন বাতাস ঠান্ডা হওয়ার বদলে পুরো সিস্টেমের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতো। দীর্ঘ সময় এমন পরিস্থিতি চললে যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই এসির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে নির্মাতারা ১৬ ডিগ্রিকেই নিরাপদ সর্বনিম্ন সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
শুধু ঠান্ডা নয়, যন্ত্রের নিরাপত্তাও বড় কারণ
এসি মূলত এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে সেটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকে ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাপমাত্রা অত্যন্ত কম পর্যায়ে নামিয়ে দিলে মেশিনের ভেতরের অংশ গুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে কুলিং সিস্টেমে জমে থাকা বরফ পুরো ইউনিটের স্বাভাবিক বাতাস চলাচল কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে এসির পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী ত্রুটিও দেখা দিতে পারে। এ কারণেই আন্তর্জাতিকভাবে প্রায় সব এসিতেই একই ধরনের সীমাবদ্ধতা রাখা হয়।
৩০ ডিগ্রির বেশি সেট করা যায় না কেন
শুধু সর্বনিম্ন নয়, এসির তাপমাত্রার উপরের দিকেও একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে। সাধারণত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি সেট করার সুযোগ দেওয়া হয় না। কারণ এই মাত্রার উপরে গেলে এসির কাজ আর স্বাভাবিক কুলিংয়ের মধ্যে থাকে না। আশপাশের তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত থাকলে মানুষ তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকতে পারে, কিন্তু এর বেশি হলে গরম অনুভূত হয়। যদি এসিকে আরও বেশি তাপমাত্রায় চালানোর সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে সেটি ঠান্ডা বাতাসের পরিবর্তে গরম বাতাস ছাড়তে শুরু করত। যেহেতু এয়ার কন্ডিশনারের প্রধান কাজ বাতাস ঠান্ডা করা, তাই এর অপারেটিং সীমাও সেই অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত সীমার পেছনে রয়েছে ব্যবহারিক চিন্তাও
এসি ব্যবহারের সময় অনেকে মনে করেন, তাপমাত্রা যত কমানো যাবে ঘর তত দ্রুত ঠান্ডা হবে। কিন্তু নির্মাতারা মেশিনের স্থায়িত্ব, কুলিং সিস্টেমের ভারসাম্য এবং নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্যই নির্দিষ্ট সীমা ঠিক করে দেন। তাই ১৬ ডিগ্রির নিচে বা ৩০ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা না যাওয়ার বিষয়টি আসলে প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থারই অংশ।
[ সূত্র: dhakamail ]






