কত বার মোবাইলে চোখ রাখলে বাড়তে পারে আসক্তি ও মানসিক চাপ

দিনে কত বার মোবাইলে চোখ রাখছেন? গবেষকরা বলছেন, অভ্যাসটাই হয়ে উঠছে বড় ঝুঁকি

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের যন্ত্র নয়, বরং দিনের প্রায় প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গী। ঘুম ভাঙার পর প্রথম যে জিনিসটি অনেকের হাতে ওঠে, সেটি ফোন। আবার রাতের শেষ সময়টাও কাটে স্ক্রিনে তাকিয়ে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটা শুধু দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার নয়, বরং অল্প সময় পরপর স্ক্রিন দেখার অভ্যাসও মানুষের মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কত বার মোবাইলে চোখ রাখা হচ্ছে, সেটিই এখন গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

বারবার ফোন দেখার সঙ্গে মস্তিষ্কের পরিবর্তনের সম্পর্ক

বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, ঘন ঘন ফোন চেক করার ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের অভ্যাস হলো কাজের ফাঁকে, যাতায়াতের সময় কিংবা খাওয়ার মাঝেও ফোনের স্ক্রিন দেখা, তাদের মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। গবেষকেরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই অভ্যাস চলতে থাকলে মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতাতেও পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

কত বার মোবাইলে চোখ রাখলে হতে পারে মানসিক ক্ষতি

মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কোনো কাজের মাঝখানে ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস মনোযোগকে ভেঙে দেয়। এতে একটি কাজের সঙ্গে মস্তিষ্কের যে সংযোগ তৈরি হয়, তা হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কাজের গতি ও নির্ভুলতার ওপর। কাজের ভুল বেড়ে যেতে পারে, একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতাও কমে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে তথ্য মনে রাখার ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Read More  Honor Magic V6 লঞ্চ: Snapdragon 8 Elite Gen 5, ৬,৬৬০mAh ব্যাটারি ও IP68/IP69 সুরক্ষায় শক্তিশালী ফোল্ডেবল

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনের নোটিফিকেশন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছোট ছোট কনটেন্ট দেখার সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। এই রাসায়নিক উপাদান সাময়িক আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে মস্তিষ্ক আবারও একই অভিজ্ঞতা পেতে ফোনের দিকে ফিরে যেতে চায়। এ কারণেই অনেকেই অজান্তেই অল্প সময় পরপর ফোন দেখতে বাধ্য হন। কিছু বিশেষজ্ঞ এই প্রবণতাকে ডিজিটাল ড্রাগ বলেও উল্লেখ করেছেন।

চোখের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও ঝুঁকিতে

মোবাইল ব্যবহার নিয়ে আলোচনায় সাধারণত চোখের ক্ষতির বিষয়টি বেশি আসে। তবে অতিরিক্ত ফোন নির্ভরতার প্রভাব কেবল দৃষ্টিশক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। ড্রাই আই সিন্ড্রোমের মতো সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অনিদ্রার মতো মানসিক জটিলতাও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডোপামিনের ভারসাম্যহীনতা মানসিক চাপ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে ফোন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে অকারণে স্ক্রিন না দেখা এবং ঘন ঘন ফোন চেক করার অভ্যাস কমানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডিজিটাল ডিটক্সের মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে মস্তিষ্ক ও চোখ দুটোকেই কিছুটা সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।

[ সূত্র: ekhon ]

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Disclaimer

We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ,হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

হাই! আমি ইমন। প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।

Leave a Comment