যাত্রাপথে বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি
ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও বিমানবন্দরে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়। অপেক্ষার সময় কাটাতে বা জরুরি যোগাযোগের জন্য অনেক যাত্রী কাছাকাছি পাওয়া উন্মুক্ত নেটওয়ার্কে দ্রুত সংযুক্ত হন। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ছুটির সময়টাকেই সাইবার অপরাধীরা বেশি কাজে লাগায়, কারণ মানুষ তখন ভ্রমণ ও পারিবারিক ব্যস্ততায় নিরাপত্তার বিষয় গুলো কম খেয়াল করেন। এই সুযোগে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ কিংবা আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ে।
নকল নেটওয়ার্ক দিয়ে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল
সাইবার অপরাধীরা প্রায়ই আসল ওয়াই-ফাইয়ের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করে। ফ্রি এয়ারপোর্ট ওয়াই-ফাই বা উৎসবকেন্দ্রিক আকর্ষণীয় নাম ব্যবহার করে তারা ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত হতে প্রলুব্ধ করে। কেউ ফ্রি ওয়াই-ফাই কানেক্ট করলেই তার অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তি জগতে এই ধরনের কৌশল ম্যান-ইন-দ্য-মিডল অ্যাটাক নামে পরিচিত, যেখানে ব্যবহারকারীর ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
কোন তথ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে
অরক্ষিত নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লগইন তথ্য এবং ই-মেইল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট তথ্যও ঝুঁকিতে থাকে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, অফিস সংক্রান্ত ডকুমেন্ট এবং কার্ডের তথ্যও হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অজান্তেই ফোনে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার প্রবেশ করে, যা পরে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে।
শুধু তরুণ নয়, ঝুঁকিতে সব বয়সী ব্যবহারকারী
স্মার্টফোন এখন সব বয়সের মানুষের কাছেই সাধারণ একটি ডিভাইস। ঈদের ভ্রমণে ভিডিও কল, অনলাইন টিকিট দেখা কিংবা ইউটিউব ব্যবহারের সময় অনেক মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যবহারকারীও উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন। কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তারা সহজেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন। ফলে ফ্রি ওয়াই-ফাই কানেক্ট করার আগে নেটওয়ার্কের সত্যতা যাচাই করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপদ থাকতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন
অপরিচিত বা পাসওয়ার্ড বিহীন নেটওয়ার্ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে উন্মুক্ত সংযোগে ব্যাংকিং অ্যাপ বা অনলাইন পেমেন্ট ব্যবহার না করাই নিরাপদ। প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত ভিপিএন ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ইন্টারনেট ব্যবহারে অতিরিক্ত সুরক্ষা যোগ করে। অনেক স্মার্টফোনে স্বয়ংক্রিয় ভাবে পুরোনো নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুবিধা থাকে, তাই অটো কানেক্ট বন্ধ রাখার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
ইউএসবি চার্জিং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা দরকার
শুধু ওয়াই-ফাই নয়, পাবলিক চার্জিং স্টেশন ব্যবহারের সময়ও তথ্য চুরির আশঙ্কা থাকে। জুস জ্যাকিং নামে পরিচিত এই পদ্ধতিতে ইউএসবি সংযোগের মাধ্যমে ডিভাইসের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। তাই ভ্রমণের সময় নিজের চার্জার ও অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করাই তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
[ সোর্স: jagonews24 ]





