শুধু সংখ্যা নয়, ফ্রিজের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এই সেটিং
অনেক বাড়িতেই ফ্রিজের ভেতরে থাকা ১, ২, ৩, ৪, ৫ নম্বর দেখে মানুষ ধরে নেন এগুলো সরাসরি তাপমাত্রা বোঝায়। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। এসব সংখ্যা মূলত ফ্রিজের কুলিং লেভেল নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ সংখ্যা যত বাড়বে, ভেতরের ঠান্ডাও তত বেশি হবে। তাই ১ নম্বর মানে কম কুলিং আর ৫ নম্বর মানে সর্বোচ্চ কুলিং ক্ষমতা। প্রতিদিনের সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাঝামাঝি সেটিং ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। কারণ সবসময় অতিরিক্ত ঠান্ডা প্রয়োজন হয় না। বিশেষ করে সাধারণ পরিবারের নিয়মিত খাবার সংরক্ষণের জন্য ৩ নম্বর সেটিংকে ভারসাম্যপূর্ণ ধরা হয়।
কেন সরাসরি ডিগ্রি না দেখিয়ে সংখ্যা ব্যবহার করা হয়
বহু ফ্রিজে এখনো মেকানিক্যাল থার্মোস্ট্যাট ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের প্রযুক্তিতে নির্দিষ্ট ডিগ্রি সেলসিয়াস ধরে রাখা সবসময় সম্ভব হয় না। এজন্য সহজভাবে ঠান্ডার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে লো থেকে হাই কুলিং বোঝাতে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত নম্বর ব্যবহার করা হয়। তবে সব ব্র্যান্ডে একই সেটিং একই রকম ফল দেয় না। কোনো ফ্রিজে ৩ নম্বর তুলনামূলক বেশি ঠান্ডা হতে পারে, আবার অন্যটিতে তা মাঝারি পর্যায়ে থাকতে পারে। তাই কেবল নম্বর দেখে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। অনেকেই এজন্য ছোট ফ্রিজ থার্মোমিটার ব্যবহার করেন, যাতে ভেতরের প্রকৃত তাপমাত্রা বোঝা যায়।
মৌসুম বদলালে সেটিংও বদলানো দরকার
বাইরের আবহাওয়া ফ্রিজের কাজের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। গরমের সময় চারপাশের তাপমাত্রা বেশি থাকায় ফ্রিজকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। তখন ৪ বা ৫ নম্বর ব্যবহার করলে ভেতরের খাবার ভালোভাবে ঠান্ডা থাকে।অন্যদিকে শীতকালে পরিবেশ এমনিতেই ঠান্ডা থাকে। ফলে কম কুলিংয়েও ফ্রিজ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে। সে সময় ২ বা ৩ নম্বর সেটিং যথেষ্ট হয়। বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় মাঝামাঝি কুলিং ব্যবহারকে কার্যকর ধরা হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার নিরাপদ রাখতে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা সাধারণত ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকা ভালো। এতে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ধীর হয় এবং খাবার দীর্ঘসময় টাটকা থাকে।
সবসময় সর্বোচ্চ কুলিং রাখলে কী সমস্যা হতে পারে
অনেকেই মনে করেন ফ্রিজ যত বেশি ঠান্ডা থাকবে, খাবারও তত বেশি দিন ভালো থাকবে। কিন্তু সবসময় ৫ নম্বরে ফ্রিজ চালালে উল্টো কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে ফল ও সবজি দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। অনেক খাবারে বরফ জমে স্বাদ ও গঠন বদলে যেতে পারে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচও বাড়ে। কম্প্রেসারকে বেশি সময় কাজ করতে হওয়ায় ফ্রিজের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই প্রয়োজন ছাড়া সর্বোচ্চ সেটিং ব্যবহারকে উপযুক্ত ধরা হয় না। সাধারণভাবে ৩ বা ৪ নম্বরকে অধিকাংশ পরিবারের জন্য কার্যকর ও সাশ্রয়ী ধরা হয়।
কিছু লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন ফ্রিজে সমস্যা হচ্ছে
ফ্রিজের কুলিং ঠিকভাবে কাজ না করলে তার প্রভাব প্রথমে খাবারের ওপরই দেখা যায়। দুধ দ্রুত নষ্ট হওয়া, পানি ঠিকমতো ঠান্ডা না হওয়া, বরফ গলতে শুরু করা বা ভেতরে দুর্গন্ধ তৈরি হওয়া এসবই ইঙ্গিত দিতে পারে যে সেটিং ঠিক নেই অথবা সার্ভিসিং প্রয়োজন। ব্যবহারের কিছু ভুলও ফ্রিজের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যেমন বারবার দরজা খোলা, গরম খাবার সরাসরি ভেতরে রাখা বা অতিরিক্ত খাবার একসঙ্গে গাদাগাদি করে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা স্থির থাকে না। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ফ্রিজে ১, ২, ৩, ৪, ৫ নম্বরের অর্থ ঠিকভাবে বুঝে ব্যবহার করলে শুধু খাবারই ভালো থাকে না, অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচও কমানো সম্ভব হয়।
[সোর্স: jagonews24 ]





