আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

VoWiFi সুবিধা চালু করলো গ্রামীণফোন, নিরবচ্ছিন্ন কলের নতুন সমাধান

📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥

VoWiFi সুবিধা চালু করলো গ্রামীণফোন

VoWiFi সুবিধা চালু করলো গ্রামীণফোন:  বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলো গ্রামীণফোন। আধুনিক প্রযুক্তি ভয়েস ওভার ওয়াইফাই বা VoWiFi চালুর মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এলো ওয়াইফাই কলিং সেবা, যা মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও সহজ করে তুলবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অস্থিতিশীল, সেখানে এই সেবা গ্রাহকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণফোন শুধু একটি নতুন ফিচার যুক্ত করেনি, বরং ডিজিটাল সংযোগের ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। বাড়ির ভেতরে, বেজমেন্টে কিংবা উঁচু ভবনের কোণায় বসেও এখন নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস কল করা সম্ভব হবে শুধুমাত্র একটি শক্তিশালী ওয়াইফাই সংযোগের মাধ্যমে।

VoWiFi প্রযুক্তি কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

VoWiFi বা ওয়াইফাই কলিং হলো এমন একটি আধুনিক টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি, যেখানে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ওয়াইফাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে ভয়েস কল সম্পন্ন করা হয়। এই প্রযুক্তি মূলত তাদের জন্য তৈরি, যারা নেটওয়ার্ক কাভারেজ সমস্যার কারণে নিয়মিত কল ড্রপ, অস্পষ্ট শব্দ কিংবা কল কানেক্ট না হওয়ার মতো ভোগান্তিতে পড়েন।

VoWiFi সুবিধা ব্যবহারের সবচেয়ে বড় দিক হলো, এতে কলের গুণগত মান উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত হয়। ইন্টারনেট সংযোগ স্থিতিশীল থাকলে শব্দ থাকে পরিষ্কার, লেটেন্সি কম হয় এবং কল বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সেবাটি ব্যবহার করতে কোনো আলাদা অ্যাপ ডাউনলোড বা ইনস্টল করার প্রয়োজন পড়ে না, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুবিধা।

দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় VoWiFi সুবিধার বাস্তব প্রয়োগ

বাংলাদেশের অনেক আবাসিক ভবন, অফিস স্পেস কিংবা শপিং মলে এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিকভাবে পৌঁছায় না। বিশেষ করে শহরের উঁচু ভবনের ভেতরে বা গ্রামীণ অঞ্চলের কিছু এলাকায় এই সমস্যা প্রকট। ওয়াইফাই কলিং সেবা চালু হওয়ায় এসব জায়গায় বসেও গ্রামীণফোন গ্রাহকরা এখন স্বাভাবিকভাবে কল করতে পারবেন।

একটি স্থিতিশীল ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক থাকলেই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ইনকামিং ও আউটগোয়িং উভয় ধরনের কল করা যাবে। এতে অফিস কল, জরুরি পারিবারিক যোগাযোগ কিংবা ব্যবসায়িক কথোপকথন কোনোভাবেই আর বাধাগ্রস্ত হবে না। এই কারণেই VoWiFi সুবিধাকে অনেকেই ভবিষ্যতের ভয়েস কলিং প্রযুক্তি হিসেবে দেখছেন।

কারা এই নতুন ওয়াইফাই কলিং সেবা ব্যবহার করতে পারবেন

গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই সেবা নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের জন্য চালু করা হয়েছে। যেসব গ্রাহক ইতোমধ্যে VoLTE সেবার আওতায় রয়েছেন এবং যাদের স্মার্টফোন VoWiFi প্রযুক্তি সাপোর্ট করে, তারা এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

এছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু পার্টনার আইএসপি’র ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকাও এই সেবা ব্যবহারের একটি শর্ত। এর মাধ্যমে গ্রামীণফোন নিশ্চিত করতে চায় যে, কলের মান যেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

কোন কোন আইএসপির মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে VoWiFi সুবিধা

নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্রামীণফোন প্রাথমিকভাবে দেশের কয়েকটি নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে। এই পার্টনার আইএসপিগুলোর ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলেই গ্রাহকরা সহজে ওয়াইফাই কলিং সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও আইএসপি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকরা সমানভাবে VoWiFi সুবিধা পান। এতে করে শহর ও আধা-শহর এলাকার পাশাপাশি অন্যান্য অঞ্চলও এই আধুনিক সেবার আওতায় আসবে।

গ্রামীণফোনের বক্তব্য ও ডিজিটাল অঙ্গীকার

এই সেবা চালু উপলক্ষে গ্রামীণফোনের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার সোলায়মান আলম জানান, গ্রাহকদের জন্য উন্নত ও উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করাই গ্রামীণফোনের মূল লক্ষ্য। ওয়াইফাই কলিং চালু সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তার মতে, VoWiFi সুবিধা গ্রাহকদের যোগাযোগ অভিজ্ঞতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে গ্রামীণফোনের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করবে। এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা আনার পরিকল্পনা করছে।

খরচের দিক থেকে গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তি

ওয়াইফাই কলিং সেবা নিয়ে গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল অতিরিক্ত চার্জ লাগবে কি না। গ্রামীণফোন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই সেবার জন্য কোনো বাড়তি খরচ দিতে হবে না। গ্রাহকের বিদ্যমান ভয়েস প্যাক বা ট্যারিফ অনুযায়ীই কল চার্জ প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ, নতুন প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়া যাবে একদম স্বাভাবিক খরচেই। এটি গ্রামীণফোনের গ্রাহকবান্ধব নীতিরই আরেকটি উদাহরণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

গ্রামীণফোনের ওয়াইফাই কলিং সেবা চালু হওয়া দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী অগ্রগতি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানটি কেবল কল ও ডেটা সেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। VoWiFi সুবিধা ব্যবহারের ফলে এখন নেটওয়ার্ক দুর্বলতার কারণে কল সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।

বিশেষ করে শহরের ইনডোর এলাকা কিংবা নেটওয়ার্ক কাভারেজ সীমিত অঞ্চল গুলোতে এই সেবা যোগাযোগকে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণে এমন প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সংযোজন ভবিষ্যতে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও স্মার্ট করে তুলবে এমনটাই প্রত্যাশা করা যায়।

Disclaimer
We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

Affiliate Disclosure
This post may contain affiliate links. We may receive a commission if you make a purchase through these links, at no extra cost to you. For more details, please visit our Disclaimer Page.
আইটি বিতান
Emon

হাই! আমি ইমন, প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।;

Next Post Previous Post
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url