আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

মোবাইল সিম নয়, তবুও ইন্টারনেট, আইওটি ডাটা সিম কী এবং কিভাবে কাজ করে

📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥

আইওটি ডাটা সিম কী

আইওটি ডাটা সিম কী: বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে স্মার্ট শব্দটি আর বিলাসিতা নয়, বরং বাস্তবতা। আমরা স্মার্টফোন ব্যবহার করছি, বিদ্যুৎ বিলের জন্য স্মার্ট মিটার দেখছি, শহর হচ্ছে স্মার্ট সিটি, এমনকি যানবাহনও এখন স্মার্ট প্রযুক্তির আওতায়। এই সব স্মার্ট সিস্টেমের পেছনে যে অদৃশ্য শক্তিটি কাজ করে, সেটি হলো Internet of Things বা সংক্ষেপে IoT। আর এই IoT ব্যবস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ইন্টারনেটে যুক্ত রাখতে যে বিশেষ ধরনের সিম ব্যবহৃত হয়, সেটিকেই বলা হয় আইওটি ডাটা সিম।

অনেকেই জানতে চান, আসলে আইওটি ডাটা সিম কী, এটি সাধারণ সিমের মতোই কি না, কিভাবে কাজ করে এবং বাংলাদেশে কবে নাগাদ এটি পুরোপুরি চালু হবে। এই লেখায় সহজ ও বাস্তব উদাহরণ দিয়ে সব বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

আইওটি ডাটা সিম কী

আইওটি ডাটা সিম মূলত মানুষের জন্য তৈরি কোনো সিম নয়। এটি ডিজাইন করা হয়েছে মেশিন, যন্ত্র বা স্মার্ট ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য। যেখানে মানুষের কথা বলা বা এসএমএস পাঠানোর দরকার নেই, সেখানে এই সিম নীরবে কাজ করে শুধুমাত্র তথ্য পাঠানো ও গ্রহণের মাধ্যমে।

ধরা যাক, একটি স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার প্রতিদিন কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে সেই তথ্য বিদ্যুৎ অফিসে পাঠাচ্ছে। এই তথ্য পাঠানোর জন্য আলাদা করে কেউ কিছু করছে না, পুরো কাজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে আইওটি ডাটা সিমের মাধ্যমে। একইভাবে GPS ট্র্যাকার, স্মার্ট ওয়াচ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেন্সর কিংবা স্মার্ট সিটির নানা ডিভাইস এই সিম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখে।

আইওটি ডাটা সিম কিভাবে কাজ করে

আইওটি ডাটা সিমের কাজের পদ্ধতি সাধারণ সিমের মতো হলেও উদ্দেশ্যে ভিন্নতা আছে। এই সিম একটি Machine to Machine বা M2M যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করে। অর্থাৎ এখানে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই ডিভাইস নিজেই অন্য ডিভাইস বা সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

একটি স্মার্ট ডিভাইসের ভেতরে যখন আইওটি ডাটা সিম বসানো থাকে, তখন সেটি মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। ডিভাইসটি তার সংগৃহীত তথ্য যেমন অবস্থান, তাপমাত্রা, বিদ্যুৎ ব্যবহার বা সেন্সরের ডেটা নির্দিষ্ট সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। সেই সার্ভার থেকে আবার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশনা বা আপডেট ডিভাইসে ফিরে আসে। পুরো প্রক্রিয়াটি মানুষের চোখের আড়ালেই চলতে থাকে।

এই সিম 2G, 4G, NB-IoT, LTE-M এমনকি ভবিষ্যতের 5G নেটওয়ার্কেও কাজ করার সক্ষমতা রাখে। অনেক আইওটি সিম এমনভাবে তৈরি হয়, যাতে এটি নিজে থেকেই সবচেয়ে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বেছে নিতে পারে।

বাংলাদেশে আইওটি ডাটা সিম কবে চালু হবে

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে আইওটি ডাটা সিম নতুন কোনো বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চীন কিংবা জাপানের মতো দেশে এটি বহু বছর ধরেই ব্যবহার হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে নতুন।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে আইওটি ডাটা সিম চালুর প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট খাতে পরীক্ষামূলকভাবে এই সিম ব্যবহার শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে স্মার্ট মিটার, স্মার্ট সিটি প্রকল্প, যানবাহন ট্র্যাকিং এবং শিল্পখাতে Industry 4.0 বাস্তবায়নের জন্য আইওটি সিম ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতে যখন বাংলাদেশে 5G নেটওয়ার্ক পুরোপুরি চালু হবে, তখন বাণিজ্যিকভাবে আইওটি ডাটা সিম সাধারণ পর্যায়েও সহজলভ্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ সিম আর আইওটি ডাটা সিমের মৌলিক পার্থক্য

সাধারণ মোবাইল সিম মূলত মানুষের যোগাযোগের জন্য তৈরি। সেখানে ভয়েস কল, ভিডিও কল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো মুখ্য। অন্যদিকে আইওটি ডাটা সিম তৈরি হয়েছে নিরব ও স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগের জন্য।

আইওটি সিমে সাধারণত ভয়েস কলের কোনো প্রয়োজন নেই। ডেটা ব্যবহারের পরিমাণও খুব কম, কারণ এখানে বড় ভিডিও বা ছবি নয়, বরং ছোট ছোট তথ্য পাঠানো হয়। এই সিমগুলোর আয়ুষ্কাল অনেক বেশি হয়, অনেক ক্ষেত্রে সাত থেকে দশ বছর পর্যন্ত একটি সিম বদলানোর দরকার পড়ে না।

আরেকটি বড় পার্থক্য হলো নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা। সাধারণ সিম সাধারণত একটি অপারেটরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু আইওটি ডাটা সিম একাধিক নেটওয়ার্কে কাজ করতে পারে এবং দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালনা করা যায়।

আইওটি ডাটা সিম কেন ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

আইওটি ডাটা সিমের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ। একটি ডিভাইস প্রায় সবসময় অনলাইনে থাকায় রিয়েল-টাইম ডেটা পাওয়া সম্ভব হয়। খুব অল্প ডেটা ব্যবহার করেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, যা ব্যবসা ও সেবার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া এই সিমগুলো অত্যন্ত নিরাপদ। ডেটা এনক্রিপশন, প্রাইভেট নেটওয়ার্ক এবং আলাদা সার্ভারের মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষিত রাখা হয়। অনেক আইওটি ডাটা সিম গ্লোবাল রোমিং সুবিধা দেয়, ফলে একই সিম ব্যবহার করে একাধিক দেশে ডিভাইস চালানো সম্ভব হয়।

শেষকথা

আইওটি ডাটা সিম শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, এটি ভবিষ্যতের স্মার্ট বিশ্বের ভিত্তি। স্মার্ট সিটি, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং শিল্পখাতে এই সিমের ব্যবহার দিন দিন বাড়বে। বাংলাদেশেও ধাপে ধাপে এই প্রযুক্তির বিস্তার ঘটবে এবং ডিজিটাল রূপান্তরের পথে আইওটি ডাটা সিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংক্ষেপে বলা যায়, যারা জানতে চান আইওটি ডাটা সিম কী, তাদের জন্য এটি শুধু একটি সিম নয়, বরং স্মার্ট ভবিষ্যতের নীরব চালিকাশক্তি।

Disclaimer
We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

Affiliate Disclosure
This post may contain affiliate links. We may receive a commission if you make a purchase through these links, at no extra cost to you. For more details, please visit our Disclaimer Page.
আইটি বিতান
Emon

হাই! আমি ইমন, প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।;

Next Post Previous Post
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url