স্বাধীনতার সুখ কবিতা | রজনীকান্ত সেন
📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥
চড়াই আর বাবুই পাখির কথোপকথনের মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন বড় ঘরে থাকা মানেই সুখ নয়, আবার ছোট ঘরে কষ্ট পেলেই তা দুঃখ নয়। সুখ আসলে সেই জায়গায়, যেখানে আমরা নিজের হাতে কিছু তৈরি করি,যেখানে পরিশ্রম আছে, চেষ্টা আছে, আর আছে নিজের গড়া এক টুকরো স্বপ্নের ঘর।
এই কবিতাটি যখন পড়ি, তখন মনে হয় জীবনের সেই ছোট ছোট স্বাধীনতা গুলো যে কত আনন্দ দেয়। তাই তোমাদের সঙ্গে আজ স্বাধীনতার সুখ কবিতা নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করলো। আশা করি তুমি যখন কবিতাটি পড়বে, তখন তোমার মনেও একটু হলেও নিজের জীবনের কথা ভেসে উঠবে। নিচে কবিতাটি দেওয়া হলো।
স্বাধীনতার সুখ কবিতা
রজনীকান্ত সেন
বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই,
“কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই,
আমি থাকি মহা সুখে অট্টালিকা পরে
তুমি কত কষ্ট পাও রোধ, বৃষ্টির, ঝড়ে৷”
বাবুই হাসিয়া কহে, “সন্দেহ কি তায়?
কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়৷
পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা৷”
শেষকথা
আমরা মাঝে মাঝে ভাবি যদি কারও দেওয়া নিরাপত্তা পেতাম, যদি বড় কোনো আশ্রয় থাকতো, তাহলে জীবনটা আরও ভালো হতো। কিন্তু রজনীকান্ত সেনের এই কবিতা যেন আলতো করে মনে করিয়ে দেয় সত্যিকারের সুখ সেই জায়গায়, যেখানে নিজের পরিশ্রম আছে, নিজের অর্জন আছে। বাবুই পাখির মতোই ছোট্ট ঘর হলেও সেখানে তার গর্ব আছে কারণ সেটা তার নিজের হাতের।
স্বাধীনতার সুখ কবিতা তাই আমাদের চোখে শেখায় স্বাধীনতার এক ভিন্ন ছবি যা জোর করে পাওয়া যায় না, অন্য কেউ এনে দিতে পারে না। এটি একান্তই নিজের সিদ্ধান্তের, নিজের চেষ্টার, নিজের সাহসের ফল। তুমি যখন নিজের জীবনের ছোট-বড় সিদ্ধান্ত নাও, নিজের মতো করে স্বপ্ন গড়ো সেই মুহূর্ত গুলোতেই স্বাধীনতার আসল আনন্দ লুকিয়ে থাকে। আশা করি এই কবিতা তোমাকে সেই অনুভূতিটুকু আবার মনে করিয়ে দেবে, আর নিজের পথ চলার শক্তিটা একটু হলেও বাড়িয়ে দেবে।
