অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল iPhone Fold নিয়ে সামনে এলো নতুন তথ্য
📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥
iPhone Fold: দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তি বিশ্বে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কবে অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন আনবে? অবশেষে সেই প্রশ্নের উত্তর মিলতে শুরু করেছে বিভিন্ন লিক এবং টিপস্টারদের তথ্যের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় টেক টিপস্টার Jon Prosser প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে অ্যাপলের আপকামিং iPhone Fold ফোনের সম্ভাব্য রেন্ডার ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত দিক। এই লিক সামনে আসার পর থেকেই স্মার্টফোন বাজারে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
অ্যাপল সব সময়ই নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনতে একটু দেরি করে, কিন্তু যখন আনে, তখন সেটিকে নিখুঁত পর্যায়ে নিয়ে যায় এমনটাই বিশ্বাস করেন অ্যাপল ভক্তরা। iPhone Fold নিয়েও ঠিক এমনটাই আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই ফোনে প্রায় অদৃশ্য স্ক্রিন ক্রিজ থাকার যে দাবি করা হয়েছে, তা সত্যি হলে ফোল্ডেবল ফোন সেগমেন্টে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে অ্যাপল।
বুক-স্টাইল ফোল্ডেবল ডিজাইনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
লিক অনুযায়ী, অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনে ক্ল্যামশেল বা ফ্লিপ ডিজাইন বেছে নেয়নি। বরং তারা বুক-স্টাইল ফোল্ডেবল ফর্ম ফ্যাক্টরের দিকে ঝুঁকেছে, যা বর্তমানে প্রিমিয়াম ফোল্ডেবল ফোনগুলোর মধ্যেই বেশি জনপ্রিয়। এই ডিজাইনে ফোনটি বন্ধ অবস্থায় একটি সাধারণ স্মার্টফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে, আবার খুললে এটি একটি ছোট ট্যাবলেটের অভিজ্ঞতা দেবে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফোনটির বাইরের কভার ডিসপ্লে প্রায় ৫.৫ ইঞ্চির হতে পারে, যা দৈনন্দিন কাজ যেমন কল করা, নোটিফিকেশন দেখা কিংবা দ্রুত রিপ্লাই দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে ফোনটি পুরোপুরি খুললে প্রায় ৭.৮ ইঞ্চির বড় স্ক্রিন পাওয়া যেতে পারে, যা মাল্টিটাস্কিং, ভিডিও দেখা কিংবা প্রোডাক্টিভ কাজের জন্য আদর্শ হবে।
ক্রিজ-ফ্রি ডিসপ্লে: ফোল্ডেবল ফোনের সবচেয়ে বড় সমস্যার সমাধান
বর্তমান ফোল্ডেবল স্মার্টফোনগুলোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো স্ক্রিনের মাঝখানে দৃশ্যমান ক্রিজ। ব্যবহারকারীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে এই ক্রিজ দীর্ঘমেয়াদে চোখে লাগে এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নষ্ট করে। iPhone Fold নিয়ে সবচেয়ে বড় আলোচনা হচ্ছে এই ক্রিজ সমস্যার সমাধান।
টিপস্টারদের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপল এখানে বিশেষ এক ধরনের ডিসপ্লে টেকনোলজি ব্যবহার করতে পারে, যেখানে প্রেশার সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষ মেটাল প্লেট এবং উন্নত হিঞ্জ মেকানিজম থাকবে। হিঞ্জে লিকুইড মেটাল ব্যবহারের কথাও শোনা যাচ্ছে, যা স্ক্রিন ভাঁজের সময় চাপ কমাতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি আলট্রা-থিন ফ্লেক্সিবল গ্লাস প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করে স্ক্রিনকে আরও মসৃণ এবং টেকসই করা হতে পারে।
পাতলা বডি ডিজাইন ও প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি
iPhone Fold এর আরেকটি বড় আকর্ষণ হতে পারে এর স্লিম ডিজাইন। লিক অনুযায়ী, ফোনটি ভাঁজ করা অবস্থায় প্রায় ৯ মিলিমিটার পুরু হতে পারে এবং পুরোপুরি খুললে এর পুরুত্ব কমে প্রায় ৪.৫ মিলিমিটারে নেমে আসতে পারে। এই পরিমাপ সত্যি হলে এটি বাজারের সবচেয়ে পাতলা বুক-স্টাইল ফোল্ডেবল ফোন গুলোর একটি হবে।
অ্যাপল বরাবরই তাদের ডিভাইসের বিল্ড কোয়ালিটি নিয়ে কোনো আপস করে না। তাই ধারণা করা হচ্ছে, iPhone Fold এও প্রিমিয়াম মেটেরিয়াল ব্যবহার করা হবে, যা ফোনটিকে শুধু দেখতে নয়, হাতে ধরলেও আলাদা অনুভূতি দেবে।
ক্যামেরা সেটআপে বাস্তববাদী অ্যাপ্রোচ
ফটোগ্রাফির দিক থেকে iPhone Fold খুব বেশি এক্সপেরিমেন্টাল হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। লিক অনুযায়ী, ফোনটিতে ডুয়েল রেয়ার ক্যামেরা সেটআপ থাকতে পারে, যার ডিজাইন অনেকটা iPhone Air সিরিজের মতো হতে পারে। এই ক্যামেরাগুলো দৈনন্দিন ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কভার ডিসপ্লেতে একটি সেলফি ক্যামেরা এবং ভেতরের বড় স্ক্রিনে আরেকটি ক্যামেরা থাকতে পারে। তবে আন্ডার ডিসপ্লে ক্যামেরা প্রযুক্তি অ্যাপল এই ফোনে ব্যবহার করবে না বলেই জানা যাচ্ছে, কারণ অ্যাপল এখনো এই প্রযুক্তিকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত মনে করছে না।
শক্তিশালী পারফরমেন্স ও ভবিষ্যৎমুখী হার্ডওয়্যার
পারফরমেন্সের দিক থেকে iPhone Fold যে কোনো আপস করবে না, তা বলাই বাহুল্য। লিক অনুযায়ী, এই ফোনে অ্যাপলের আসন্ন A20 Pro চিপসেট ব্যবহার করা হতে পারে, যা আগের প্রজন্মের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও এনার্জি এফিশিয়েন্ট হবে।
এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে দ্বিতীয় প্রজন্মের C2 মোডেম, যা নেটওয়ার্ক স্ট্যাবিলিটি ও স্পিড বাড়াতে সাহায্য করবে। হাই-ডেনসিটি ব্যাটারি ব্যবহারের ফলে বড় স্ক্রিন থাকা সত্ত্বেও ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। যারা দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, মাল্টিটাস্কিং করেন কিংবা প্রাইভেট কাজ যেমন হোয়াটসঅ্যাপে গোপন চ্যাট পরিচালনা করেন, তাদের জন্য এই ব্যাটারি পারফরমেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Face ID বাদ দিয়ে Touch ID ফেরার সম্ভাবনা
একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, iPhone Fold থেকে Face ID বাদ দেওয়া হতে পারে। এর পরিবর্তে পাওয়ার বাটনের সঙ্গে ইন্টিগ্রেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এই সেন্সরটি ফোনের টপ প্যানেলে থাকা পাওয়ার বাটনের মধ্যেই যুক্ত থাকতে পারে।
ফোল্ডেবল ডিজাইনে Face ID সেটআপ জটিল হওয়ায় অ্যাপল সম্ভবত এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। Touch ID অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই এখনো জনপ্রিয়, তাই এই পরিবর্তনকে নেতিবাচক হিসেবে নাও দেখা হতে পারে।
কালার অপশন, দাম ও বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
রিপোর্ট অনুযায়ী, iPhone Fold শুধুমাত্র ব্ল্যাক এবং হোয়াইট এই দুইটি ক্লাসিক রঙে বাজারে আসতে পারে। অ্যাপলের মিনিমালিস্টিক দর্শনের সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত বেশ মানানসই।
দামের দিক থেকে এই ফোনটি যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নয়, তা প্রায় নিশ্চিত। সম্ভাব্য মূল্য ২,০০০ থেকে ২,৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার কাছাকাছি। এই দামে এটি অ্যাপলের ইতিহাসের অন্যতম দামী আইফোন হয়ে উঠবে।
বাজারে এই ফোনটির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে Samsung Galaxy Z Fold সিরিজ, Honor Magic V সিরিজ এবং Google Pixel Fold লাইনের ডিভাইসগুলোকে দেখা যেতে পারে। তবে অ্যাপলের ইকোসিস্টেম ও সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনের কারণে iPhone Fold আলাদা গুরুত্ব পেতে পারে।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে বলা যায়, iPhone Fold শুধুমাত্র একটি নতুন ফোন নয়, বরং অ্যাপলের ফোল্ডেবল ভবিষ্যতের প্রথম ধাপ। যারা প্রিমিয়াম স্মার্টফোন ব্যবহার করতে ভালোবাসেন, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহী এবং দামের বিষয়টি নিয়ে ভাবেন না, তাদের জন্য এই ফোনটি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় হবে। তবে অফিসিয়াল লঞ্চে এখনো সময় বাকি, তাই অ্যাপল ভক্তদের কিছুটা ধৈর্য ধরতেই হবে।
তথ্য সূত্র: 91mobiles
