হাতের আঙুল ফোটালে শব্দ হয় কেন? জানলে অবাক হবেন
📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥
হাতের আঙুল ফোটালে শব্দ হয় কেন : অনেকেই আছেন, যাদের হাতের আঙুল টান দিলেই বা হালকা মোচড় দিলেই একটা টক বা পট শব্দ হয়। কারো কাছে এই অভ্যাসটা বিরক্তিকর, আবার কারো কাছে বেশ আরামদায়ক। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, হাতের আঙুল ফোটালে সময় শব্দ হয় কেন? এই শব্দটা আসলে কোথা থেকে আসে, আর এর পেছনে শরীরের ভেতরে ঠিক কী ঘটে? আজকের এই পোস্টে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ভাবে জানার চেষ্টা করবো।
আরো পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপে গোপন চ্যাট সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
হাতের আঙুল ফোটানোর সময় আসলে কী ঘটে
আমাদের শরীরের প্রতিটি আঙুলে কয়েকটি করে হাড় থাকে এবং এই হাড় গুলোর সংযোগস্থলকে বলা হয় জয়েন্ট বা সন্ধি। এই সন্ধি গুলোর ভেতরে থাকে একটি তরল পদার্থ, যার নাম সাইনোভিয়াল ফ্লুইড। এই তরল মূলত জয়েন্টকে মসৃণভাবে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে এবং ঘর্ষণ কমায়।
যখন আমরা হঠাৎ করে আঙুল টানি বা মোচড় দিই, তখন জয়েন্টের ভেতরের জায়গাটা অল্প সময়ের জন্য বড় হয়ে যায়। এই পরিবর্তনের ফলে তরলের ভেতরে থাকা গ্যাস হঠাৎ করে চাপের তারতম্যের কারণে আচমকা বেরিয়ে আসে। ঠিক এই মুহূর্তেই যে শব্দটা হয়, সেটাকেই আমরা আঙুল ফোটানোর শব্দ হিসেবে শুনি। তাই হাতের আঙুল ফোটালে সময় শব্দ হয় কেন এর উত্তর লুকিয়ে আছে জয়েন্টের ভেতরের এই চাপের পরিবর্তনের মধ্যেই।
শব্দটা কি হাড় ভাঙার মতো কিছু?
অনেকেই মনে করেন, আঙুল ফোটালে বুঝি হাড়ে হাড়ে ধাক্কা লাগে বা কিছু ভেঙে যায়। বাস্তবে বিষয়টা মোটেও তা নয়। এই শব্দ কোনো হাড় ভাঙার আওয়াজ নয়, এমনকি হাড় একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার ফলও না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শব্দ মূলত গ্যাসের বুদবুদ তৈরি হওয়া বা ভেঙে যাওয়ার কারণে হয়। জয়েন্টের ভেতরে দ্রবীভূত গ্যাস থাকে, বিশেষ করে নাইট্রোজেন। হঠাৎ চাপ কমে গেলে এই গ্যাস ছোট ছোট বুদবুদের আকার নেয় এবং সেখান থেকেই শব্দ তৈরি হয়। তাই হাতের আঙুল ফোটালে সময় শব্দ হয় কেন এর ব্যাখ্যা পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক এবং স্বাভাবিক।
কেন একবার ফোটানোর পর সঙ্গে সঙ্গে আবার শব্দ হয় না
আপনি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, একবার আঙুল ফোটানোর পর সঙ্গে সঙ্গে আবার টান দিলেও শব্দ হয় না। এর কারণ হলো, প্রথমবার ফোটানোর পর জয়েন্টের ভেতরের গ্যাস গুলো আবার তরলের সঙ্গে মিশে যেতে কিছুটা সময় লাগে।
এই সময়টাকে বলা হয় রিফ্র্যাক্টরি পিরিয়ড। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে আবার নতুন করে শব্দ তৈরি হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হতে। তাই বারবার চেষ্টা করলেও তৎক্ষণাৎ একই আঙুল থেকে শব্দ পাওয়া যায় না। এখানেই বোঝা যায়, হাতের আঙুল ফোটালে সময় শব্দ হয় কেন এটা কোনো যান্ত্রিক ক্ষতি নয়, বরং একটি সাময়িক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
আঙুল ফোটানো কি ক্ষতিকর অভ্যাস
এই প্রশ্নটা প্রায় সবাই করে থাকেন। ছোটবেলায় বড়রা অনেক সময় বলতেন, বেশি আঙুল ফোটালে নাকি বাত হয়ে যায়। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, এর পক্ষে তেমন শক্ত প্রমাণ নেই। স্বাভাবিক ভাবে, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো জয়েন্টের স্থায়ী ক্ষতি করে না। তবে যদি জোর করে, ব্যথা সহ্য করে বা খুব ঘন ঘন একই জয়েন্টে চাপ দেওয়া হয়, তাহলে সাময়িক অস্বস্তি বা লিগামেন্টে টান লাগতে পারে। তাই হাতের আঙুল ফোটালে সময় শব্দ হয় কেন জানাটা যেমন জরুরি, তেমনি নিজের শরীরের সীমা বোঝাটাও গুরুত্বপূর্ণ।
কেন অনেকের আঙুল ফোটাতে ভালো লাগে
অনেক মানুষ বলেন, আঙুল ফোটানোর পর নাকি হালকা আরাম লাগে। এর পেছনেও একটি ব্যাখ্যা আছে। আঙুল টান দেওয়ার সময় জয়েন্টের চারপাশের পেশি ও টিস্যু সাময়িকভাবে প্রসারিত হয়, যা চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া মানসিক দিক থেকেও এটি অনেকের জন্য অভ্যাসে পরিণত হয়। নার্ভাস হলে, চিন্তায় থাকলে বা এক ঘেয়েমি কাটাতে অনেকেই অজান্তেই আঙুল ফোটাতে থাকেন। তাই হাতের আঙুল ফোটালে সময় শব্দ হয় কেন এই প্রশ্নের উত্তর শুধু শরীরেই নয়, মানুষের অভ্যাসেও লুকিয়ে আছে।
সব মানুষের আঙুল কি একই ভাবে ফোটে
না, সবার ক্ষেত্রে বিষয়টা একরকম নয়। কারো আঙুল খুব সহজেই ফোটে, আবার কারোটা ফোটে না। এর কারণ হতে পারে জয়েন্টের গঠন, তরলের পরিমাণ, গ্যাসের উপস্থিতি এবং বয়স। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়েন্টের তরল কমে যেতে পারে, তখন শব্দ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। আবার যারা নিয়মিত হাতের কাজ করেন বা আঙুল বেশি ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে জয়েন্ট একটু ঢিলা হওয়ায় শব্দ বেশি হতে পারে।
আঙুল ফোটানো বন্ধ করা উচিত কি না
যদি আঙুল ফোটানোর সময় কোনো ব্যথা, ফুলে যাওয়া বা অস্বস্তি না হয়, তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু যদি শব্দের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা হয় বা আঙুল শক্ত হয়ে আসে, তাহলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া দরকার। শরীরের প্রতিটি সংকেতই গুরুত্বপূর্ণ। হাতের আঙুল ফোটালে সময় শব্দ হয় কেন এটা জানা যেমন দরকার, তেমনি কখন এই অভ্যাস থামানো উচিত সেটাও বোঝা জরুরি।
শেষ কথা
হাতের আঙুল ফোটালে সময় শব্দ হয় কেন এই প্রশ্নের উত্তর আসলে আমাদের শরীরের ভেতরের এক চমৎকার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার গল্প। এটা কোনো রহস্যময় বা ভয়ংকর বিষয় নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে যেকোনো অভ্যাসের মতো এটিও পরিমিত থাকা ভালো। নিজের শরীরকে বোঝা, তার ভাষা শোনা এবং অকারণে ভয় না পাওয়া এই তিনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আঙুল ফোটার শব্দ হয়তো সামান্য, কিন্তু এর পেছনের বিজ্ঞান আমাদের শরীরের জটিল ও সুন্দর ব্যবস্থাটাকেই মনে করিয়ে দেয়।
