বাসায় ইন্টারনেটের গতি হঠাৎ কমে গেলে অনেকেই প্রথমে সার্ভিস প্রোভাইডারকে দায়ী করেন। কিন্তু সব সময় সমস্যার উৎস বাইরে থাকে না। একই নেটওয়ার্কে অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস যুক্ত হয়ে গেলে ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে যায়, ফলে ভিডিও চালাতে বাফারিং হয়, অনলাইন মিটিং আটকে যায় কিংবা গেমিংয়ের সময় ল্যাগ দেখা দেয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রাউটারের ডিভাইস তালিকা পরীক্ষা করলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহার সহজেই ধরা সম্ভব। অধিকাংশ রাউটারে Connected Devices বা Attached Devices নামে একটি অপশন থাকে, যেখানে নেটওয়ার্কে সক্রিয় প্রতিটি ডিভাইসের নাম ও আইপি তথ্য দেখা যায়। পরিচিত তালিকার বাইরে কোনো ডিভাইস দেখা গেলে সেটিকে ব্লক বা সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দুর্বল পাসওয়ার্ড এখনও বড় ঝুঁকি
অনেক ব্যবহারকারী এখনও সহজ ও অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন, যা ওয়াইফাই নিরাপত্তার জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। নিজের নাম, মোবাইল নম্বর বা জন্মতারিখের মতো তথ্য ব্যবহার করলে অন্যের জন্য নেটওয়ার্কে ঢোকা সহজ হয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, নিরাপদ পাসওয়ার্ড তৈরিতে বড় হাতের ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। অন্তত ১২ অক্ষরের জটিল পাসওয়ার্ড তুলনামূলক বেশি নিরাপদ বলে ধরা হয়। একই সঙ্গে পুরোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা WEP এখন আর কার্যকর নয়, কারণ এটি সহজে হ্যাক করা সম্ভব। তাই রাউটারে WPA2 অথবা WPA3 চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নেটওয়ার্ক লুকিয়েও বাড়ানো যায় নিরাপত্তা
ওয়াইফাই নেটওয়ার্ককে সবার সামনে দৃশ্যমান না রাখার সুবিধাও এখন অনেক রাউটারে রয়েছে। Hide SSID বা Disable SSID Broadcast চালু করলে আশপাশের ডিভাইসে নেটওয়ার্কের নাম সহজে দেখা যায় না। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোগের ঝুঁকি কিছুটা কমে। আরও উন্নত নিরাপত্তার জন্য অনেকেই MAC Address Filtering ব্যবহার করেন। প্রতিটি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা স্মার্ট ডিভাইসের আলাদা ম্যাক অ্যাড্রেস থাকে। রাউটারে নির্দিষ্ট ডিভাইসের ম্যাক অ্যাড্রেস অনুমোদন দিয়ে রাখলে বাইরের কেউ পাসওয়ার্ড জেনেও নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারে না।
অতিথিদের জন্য আলাদা নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পরামর্শ
বাসায় অতিথি এলে মূল ওয়াইফাইয়ের পাসওয়ার্ড শেয়ার করা অনেক সময় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণেই নতুন প্রজন্মের রাউটারগুলোতে Guest Network সুবিধা যোগ করা হয়েছে। এই আলাদা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত ডিভাইস ও মূল নেটওয়ার্ক আলাদা থাকে। অতিথিদের জন্য আলাদা সংযোগ চালু রাখা যায় এবং প্রয়োজন শেষ হলে সহজেই সেটি বন্ধ করা বা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা সম্ভব।
রাউটারের আপডেট না করলে বাড়তে পারে ঝুঁকি
অনেক ব্যবহারকারী রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেটের বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। তবে পুরোনো সফটওয়্যারে নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা থেকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। নিয়মিত আপডেট করলে রাউটারের নিরাপত্তা শক্তিশালী থাকে এবং অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সাধারণ সেটিংস ঠিকভাবে ব্যবহার করলেই ওয়াইফাই স্লো হওয়ার পেছনের বড় কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।





