এআই যুগেও ভবিষ্যতের চাকরিতে মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে যেসব দক্ষতা

এআই যত এগোচ্ছে, কিছু দক্ষতার চাহিদা ততই বাড়ছে

কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়, বরং প্রতিদিনের বাস্তবতা। কোড লেখা থেকে শুরু করে রিপোর্ট তৈরি, ডেটা বিশ্লেষণ কিংবা কনটেন্ট তৈরির মতো অনেক কাজ ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এই পরিবর্তনের মাঝেই নতুন এক গবেষণা দেখিয়েছে, সব দক্ষতা একভাবে ঝুঁকির মুখে নেই। কিছু মানবিক সক্ষমতা এখনও এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রযুক্তি সহজে পৌঁছাতে পারছে না।

এআই

২০২৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই কোম্পানি GoHumanize প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী দশকে চাকরির বড় অংশে অটোমেশন বাড়লেও মানুষের কিছু দক্ষতা এখনও সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। গবেষণাটিতে ৬০ ধরনের পেশাগত দক্ষতা বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে নিয়োগদাতাদের গুরুত্বের মূল্যায়ন, চাকরির বিজ্ঞাপনে উপস্থিতি, অটোমেশনের ঝুঁকি এবং মানবিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরতার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।

নেতৃত্বের জায়গায় এখনও মানুষের আধিপত্য

গবেষণায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দক্ষতা হিসেবে উঠে এসেছে নেতৃত্ব। নিয়োগদাতাদের মূল্যায়নে এই দক্ষতার স্কোর ছিল ১০০ এর মধ্যে ৯৫। যদিও নেতৃত্বসংক্রান্ত প্রায় ৩১ শতাংশ কাজ এআই দিয়ে করা সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া, সংকট সামাল দেওয়া, দলকে অনুপ্রাণিত করা কিংবা অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিচার বিবেচনা করার মতো বিষয়গুলো এখনও মানুষের ওপরই নির্ভর করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতৃত্বের সঙ্গে আবেগ, পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা এবং সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার গভীর সংযোগ রয়েছে। এ কারণে এর human dependency score দেওয়া হয়েছে ৯৩। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের মতো পদগুলোতে মানুষের উপস্থিতি এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Read More  WhatsApp আপডেট না করলে ঝুঁকিতে থাকতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য, জানাল মেটা

অফিসে শুধু কাজ নয়, সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ

দলগত কাজ বা teamwork কে গবেষণায় দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ সক্রিয় চাকরির বিজ্ঞাপনে এই দক্ষতার উল্লেখ রয়েছে। গবেষকরা বলছেন, কোনো টিমে কাজ করা মানে শুধু দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া নয়। সহকর্মীদের আচরণ বোঝা, যোগাযোগের ধরন অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, দ্বন্দ্ব সামলানো এবং দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরি করার মতো বিষয়গুলোও এখানে বড় ভূমিকা রাখে।

এই কারণেই teamwork এর human dependency score নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯। গবেষণায় বলা হয়েছে, সামাজিক ও মানসিক জটিলতার কারণে এই ধরনের সহযোগিতামূলক কাজ পুরোপুরি এআইয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা কঠিন।

দর কষাকষি ও সিদ্ধান্তে মানুষের প্রভাব এখনও স্পষ্ট

তালিকার উপরের দিকে রয়েছে negotiation বা দর কষাকষির দক্ষতাও। বর্তমানে প্রায় ২৮ লাখ চাকরির বিজ্ঞাপনে এই দক্ষতার চাহিদা রয়েছে। তথ্য সংগ্রহ, প্রস্তুতি বা বিশ্লেষণের মতো কিছু অংশে এআই সহায়তা করতে পারলেও পুরো প্রক্রিয়ার মাত্র ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, সফল আলোচনায় কণ্ঠের পরিবর্তন, দেহভঙ্গি, আস্থার পরিবেশ কিংবা মুহূর্তের আবেগ বোঝার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই মানবিক উপাদানের জন্য negotiation skill এর human dependency score দাঁড়িয়েছে ৮৯।

শেখানো, গাইড করা ও মানুষের পাশে থাকা সহজ নয়

গবেষণায় coaching এবং mentoring কে এমন দক্ষতার মধ্যে রাখা হয়েছে, যেগুলোতে এআই এখনও অনেক পিছিয়ে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা কিংবা খেলাধুলা সব ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞ কাউকে গাইড করার জন্য শুধু তথ্য জানাই যথেষ্ট নয়। একজন ব্যক্তি কেন পিছিয়ে পড়ছে, তার সমস্যাটি আত্মবিশ্বাসের, জ্ঞানের নাকি মানসিক চাপে এসব বোঝার জন্য মানবিক উপলব্ধি প্রয়োজন হয়। গবেষকরা বলছেন, coaching সংক্রান্ত কাজের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ এখনও প্রযুক্তির নাগালের বাইরে রয়েছে। কারণ বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে কাউকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে মানুষের বিচারক্ষমতা বড় ভূমিকা পালন করে।

Read More  Snapdragon 8 Gen 5 ও 40W ওয়্যারলেস চার্জিংসহ আসছে Vivo X300 FE

যোগাযোগ দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে

Public speaking বা মানুষের সামনে কথা বলার সক্ষমতাও ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেওয়া, শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখা এবং ব্যক্তিগত উপস্থিতির মাধ্যমে প্রভাব তৈরি করা এসব জায়গায় এআই এখনও সীমাবদ্ধ।

বর্তমানে প্রায় ২৫ লাখ চাকরির বিজ্ঞাপনে communication বা public speaking skill এর উল্লেখ রয়েছে। এই দক্ষতার automation resistance rate ধরা হয়েছে ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তা কমছে না।

গবেষণার তালিকায় আরও রয়েছে people management, emotional intelligence, interpersonal skills, organisational leadership এবং change management এর মতো দক্ষতা। প্রতিবেদনটির অন্যতম মন্তব্য ছিল, শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে মানবিক সক্ষমতার মূল্য আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে এআই যখন নিয়মভিত্তিক ও বিশ্লেষণধর্মী কাজ দ্রুত শিখে ফেলছে, তখন মানুষকে আলাদা করে তুলছে তার আবেগ, বিচারবোধ এবং সম্পর্ক তৈরির ক্ষমতা।

[ তথ্যসূত্র: indianexpress ]

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Disclaimer

We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ,হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

হাই! আমি ইমন। প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।

Leave a Comment