হঠাৎ ফোন অস্বাভাবিক আচরণ করছে? হতে পারে ডিভাইস হ্যাকের ইঙ্গিত
বর্তমানে স্মার্টফোন ও কম্পিউটার ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ হয়ে উঠেছে। তবে অনলাইনে বেশি সময় কাটানোর সুযোগে সাইবার অপরাধীরাও নতুন নতুন ফাঁদ তৈরি করছে। অনেক সময় অজান্তেই ক্ষতিকর লিংকে প্রবেশ বা ম্যালওয়্যারযুক্ত অ্যাপ ইনস্টল করার কারণে ব্যবহারকারীর ডিভাইসে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটে। এরপর ধীরে ধীরে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন চোখে পড়তে শুরু করে, যা ডিভাইস হ্যাক হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে।
কোনো কারণ ছাড়াই ফোনের স্ক্রিন হঠাৎ চালু হয়ে যাওয়া, সেটিংস নিজের অজান্তে পরিবর্তিত হওয়া বা ডিভাইস বারবার অস্বাভাবিকভাবে কাজ করা সাধারণ সমস্যা মনে হলেও সব সময় তা স্বাভাবিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বুঝতে হবে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটারি খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায় কিংবা ফোন অকারণে অতিরিক্ত গরম হতে থাকে। এসব লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
ফোনকলে অদ্ভুত শব্দ শোনা গেলে গুরুত্ব দিন
কিছু স্পাই অ্যাপ ব্যবহারকারীর অজান্তে ফোনকল রেকর্ড করতে সক্ষম। তাই কলের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে অপরিচিত শব্দ, কণ্ঠ বা অস্বাভাবিক নয়েজ শোনা গেলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এমন ঘটনা ইঙ্গিত দিতে পারে যে ডিভাইসে কেউ নজরদারি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার ইন্টারনেট ব্যবহার না করলেও যদি মোবাইল ডেটা দ্রুত শেষ হতে থাকে, তাহলে সেটিও ডিভাইস হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ব্রাউজিং হিস্ট্রিতে অপরিচিত সার্চ থাকলে সাবধান
নিজে কোনো কিছু সার্চ না করেও যদি ব্রাউজিং হিস্ট্রিতে অচেনা ওয়েবসাইট বা অজানা বিষয় দেখা যায়, তাহলে সেটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ অনেক সময় হ্যাকাররা ম্যালওয়্যারযুক্ত ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। এছাড়া হঠাৎ অপরিচিত অ্যাপ ইনস্টল হয়ে যাওয়া কিংবা পরিচিত অ্যাপের অনুমতি বদলে যাওয়াও ডিভাইস হ্যাকের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
সমস্যা বুঝলেই দ্রুত যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার
এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিলে প্রথমেই ডিভাইস কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখে কয়েকবার রিস্টার্ট করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এরপর অ্যাপ তালিকা ভালোভাবে পরীক্ষা করে সন্দেহজনক অ্যাপ থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। নিরাপত্তার জন্য অপারেটিং সিস্টেম ও ব্যবহৃত অ্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখা জরুরি। পাশাপাশি অজানা উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের যাচাইব্যবস্থা চালু রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে গেলে ফ্যাক্টরি রিসেটকে সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
[তথ্য: ১ ]





