ডিলিট করলেও সব ছবি-ভিডিও কি সত্যিই হারিয়ে যায়?
ফোন থেকে কোনো ছবি বা ভিডিও ডিলিট করার পর বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন সেটি পুরোপুরি মুছে গেছে। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। অনেক ক্ষেত্রে ডিলিট করা ফাইলের মূল তথ্য ডিভাইসের মেমোরিতে থেকেই যায়। সিস্টেম সাধারণত সেই ফাইলের অবস্থান বা অ্যাক্সেস সরিয়ে দেয়, কিন্তু ডেটা তখনও সংরক্ষিত থাকতে পারে। পরে নতুন তথ্য এসে সেই জায়গা দখল না করা পর্যন্ত পুরোনো ফাইল পুনরুদ্ধারের সুযোগ থেকে যায়।
এই কারণেই বিভিন্ন রিকভারি সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিলিট করা ছবি, ভিডিও কিংবা অন্যান্য ফাইল আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। বিশেষ করে পুরোনো ফোন বিক্রি করার আগে শুধু ফাইল ডিলিট করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। ব্যক্তিগত তথ্য তখনও ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে।

ক্লাউড থেকে ফাইল সরালেও ঝুঁকি পুরো শেষ হয় না
অনেকে মনে করেন ক্লাউড স্টোরেজ থেকে কোনো ফাইল ডিলিট করলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু গুগল ড্রাইভ বা ড্রপবক্সের মতো সেবাগুলোতে মুছে ফেলা ফাইল কিছু সময়ের জন্য ট্র্যাশ বা বিন ফোল্ডারে থেকে যায়। কিছু ক্ষেত্রে ভার্সন হিস্ট্রিতেও আগের কপি সংরক্ষিত থাকতে পারে।
ফলে কোনো সংবেদনশীল ফাইল ডিলিট করার পরও সেটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে থেকে যেতে পারে। শুধু মূল ফাইল মুছে ফেললেই সব শেষ হয় না, ট্র্যাশ ফোল্ডার ও ব্যাকআপ অংশও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আগে শেয়ার করা ফাইল হলে তার পারমিশন বন্ধ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ফোন বিক্রি বা রিসেটের আগে যেসব বিষয় জরুরি ডিভাইস অন্য কারও হাতে দেওয়ার আগে নিরাপত্তার কিছু ধাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রথমেই ফোনে যুক্ত থাকা সব অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট করতে হবে। এরপর ডিভাইস এনক্রিপ্ট করা হলে ভেতরের তথ্য উদ্ধার করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।
শুধু একবার ফ্যাক্টরি রিসেট করলেই সবসময় ডেটা পুরোপুরি মুছে যায় না। তাই পুরোনো তথ্যের ঝুঁকি কমাতে একাধিকবার রিসেট করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে আগের ডেটার ওপর নতুন তথ্য লেখার সম্ভাবনা বাড়ে এবং পুনরুদ্ধারের সুযোগ কমে যায়।
ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখার অভ্যাস কেন গুরুত্বপূর্ণ
গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সাধারণ স্টোরেজে না রেখে এনক্রিপ্টেড জায়গায় সংরক্ষণ করলে নিরাপত্তা বাড়ে। অনেক সময় হ্যাকার নয়, বরং অব্যবহৃত বা ফেলে রাখা পুরোনো তথ্য থেকেই গোপনীয়তার ঝুঁকি তৈরি হয়। ডিজিটাল জীবনে ছোট কিছু সতর্কতা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে সংবেদনশীল ফাইল স্থায়ীভাবে ডিলিট করার অভ্যাস ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
[ তথ্য: Dhakamail ]





