টেলিটক বিক্রি নয়, নতুন বিনিয়োগ আনছে সরকার

টেলিটক বিক্রি নিয়ে জল্পনার মাঝে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটককে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনায় নতুন করে পরিষ্কার বার্তা এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টেলিটক বিক্রি করার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিতে নতুন বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য সরকার জিটুজি এবং পিপিপি কাঠামোকে গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত টেলিকম খাতভিত্তিক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়।

টেলিটক বিক্রি নয়

টেলিকম খাতে ৫জি ও এআই সম্প্রসারণের লক্ষ্য

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারে কাজ চলছে। সরকারের পরিকল্পনায় ৫জি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই অনুষ্ঠানে তিনি তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

২০৩৫ সালকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ভবিষ্যৎ টেলিকম কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, বাংলাদেশকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ ২০ টেলিকম দেশের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

নতুন লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় একচেটিয়া প্রভাব কমানোর ইঙ্গিত

বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী বলেন, ভবিষ্যৎ লাইসেন্সিং কাঠামো এমনভাবে সাজানো হবে যাতে কোনো একক অপারেটর বাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে। গ্রাহকদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। টেলিকম খাতের প্রতিযোগিতা মূলক পরিবেশ ধরে রাখার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

Read More  দুর্বল নেটওয়ার্কেও HD কল ! সারা দেশে বাংলালিংকের ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই কলিং চালু

টেলিটকের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভিন্নমত

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পক্ষ টেলিটকের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আলাদা মত তুলে ধরে। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান নির্বাহী নুরুল কবীর মনে করেন, বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার পরও টেলিটক প্রত্যাশিত উন্নতি দেখাতে পারেনি। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বলেন, মানসম্মত স্পেকট্রামের অভাব সেবার মান উন্নয়নে বাধা তৈরি করছে।

একই অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটার রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান সাহেদ আলম দেশের প্রযুক্তি খাত নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশ এখনো প্রযুক্তি ব্যবহারের বাজার হিসেবেই বেশি পরিচিত।

বিনিয়োগবান্ধব নীতির ওপর জোর

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা আগামী দশকের ডিজিটাল অর্থনীতিকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাদের মতে, টেলিকম খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগবান্ধব এবং বৈষম্যহীন নীতিমালার বিকল্প নেই। টেলিটক বিক্রি নিয়ে বিতর্কের মাঝেও সরকারের বর্তমান অবস্থান পরিষ্কার রাষ্ট্রায়ত্ত এই অপারেটরকে বাজার থেকে সরিয়ে নয়, বরং নতুন বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

[ সূত্র: dainikamadershomoy ]

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Disclaimer

We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ,হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

হাই! আমি ইমন। প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।

Leave a Comment