মোবাইল সিগন্যাল দুর্বল? ওয়াইফাই কলিং ফিচার দিয়ে সহজেই করুন ভয়েস কল

বাংলাদেশে কয়েকটি মোবাইল অপারেটর এখন ব্যবহারকারীদের জন্য ওয়াইফাই কলিং সুবিধা চালু করেছে। ফলে অনেক সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকলেও শুধু ওয়াইফাই ইন্টারনেট ব্যবহার করেই কল করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে বাসা, অফিস বা এমন জায়গায় যেখানে টাওয়ারের সিগন্যাল ঠিকমতো পাওয়া যায় না, সেখানে এই ফিচার অনেকের জন্য কাজে আসতে পারে।

ওয়াইফাই কলিং ব্যবহার করলে আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে হয় না। সাধারণ মোবাইল নম্বর দিয়েই ফোনের ডিফল্ট ডায়ালার থেকে কল করা যায়। যাকে কল করা হচ্ছে তার ফোনে এই ফিচার চালু থাকাও বাধ্যতামূলক নয়। আপনার ফোন ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেই কল করা সম্ভব হয়।

ওয়াইফাই কলিং

ওয়াইফাই কলিং আসলে কী

ওয়াইফাই কলিং এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ওয়াইফাই ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভয়েস কল করা হয়। অনেক সময় ফোনে নেটওয়ার্ক সিগন্যাল খুব কম থাকে বা একেবারেই থাকে না, কিন্তু ওয়াইফাই সংযোগ ঠিক থাকে। সেই পরিস্থিতিতে এই ফিচার ব্যবহার করে স্বাভাবিক ফোনকল চালিয়ে যাওয়া যায়। বর্তমানে বেশিরভাগ নতুন অ্যানড্রয়েড ও আইফোন মডেলে এই সুবিধা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে মোবাইল অপারেটরেরও ওয়াইফাই কলিং সাপোর্ট থাকতে হয়। ফোনের সিম সচল থাকলেই ব্যবহারকারী সহজে এই সুবিধা চালু করতে পারেন।

কোন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে

অনেক ব্যবহারকারী এমন জায়গায় থাকেন যেখানে মোবাইল টাওয়ারের সিগন্যাল দুর্বল। কিন্তু একই জায়গায় ভালো ওয়াইফাই সংযোগ পাওয়া যায়। সেই ক্ষেত্রে ওয়াইফাই কলিং ব্যবহার করলে পরিষ্কার ভয়েস কোয়ালিটিতে কথা বলা সম্ভব হয়। অনেক সময় এইচডি ভয়েস সুবিধাও পাওয়া যায়। বিদেশ ভ্রমণের সময়ও কিছু অপারেটরের ক্ষেত্রে এই ফিচার কাজে লাগে। কারণ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি রোমিং চার্জ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা ইমোর মতো অ্যাপের উপর নির্ভর না করেও সরাসরি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কথা বলা যায়।

Read More  Honor Play 80 Pro 5G অফিসিয়াল: 120Hz ডিসপ্লে, 50MP ক্যামেরা, সঙ্গে বিশাল ব্যাটারি

যেসব জিনিস ছাড়া ওয়াইফাই কলিং চালু হবে না

এই সুবিধা ব্যবহার করতে হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হয়। প্রথমত, স্মার্টফোনে ওয়াইফাই কলিং সাপোর্ট থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, ফোনকে সক্রিয় ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর মোবাইল অপারেটরেও এই ফিচারের সাপোর্ট থাকতে হবে।

এই তিনটি শর্ত পূরণ হলেই ফোনের সেটিংস থেকে সহজে ফিচারটি চালু করা যায়।

অ্যানড্রয়েড ও আইফোনে যেভাবে চালু করবেন

অ্যানড্রয়েড ফোনে প্রথমে সেটিংসে যেতে হবে। এরপর Network & Internet অথবা Connections অপশনে প্রবেশ করে Mobile Network নির্বাচন করতে হবে। সেখানে Wi-Fi Calling অপশন চালু করলে ফিচারটি সক্রিয় হয়ে যাবে। কিছু ফোনে আবার Calls মেনুর ভেতরেও এই অপশন পাওয়া যায়।আইফোন ব্যবহারকারীদের সেটিংস থেকে Apps অপশনে যেতে হবে। এরপর Phone সেকশনে গিয়ে নিচের দিকে স্ক্রল করলে Wi-Fi Calling অপশন দেখা যাবে। সেখানে Wi-Fi Calling on This iPhone চালু করলেই কাজ করবে।

নিরাপত্তা নিয়ে যা জানা দরকার

ওয়াইফাই কলিং সাধারণত মোবাইল অপারেটরের VoLTE বা IMS নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকে। তাই এটি মোবাইল নেটওয়ার্ক কলের মতো একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে এটিকে আরও নিরাপদও ধরা হয়।তবে পাবলিক বা অচেনা ওয়াইফাই ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা ভালো। কারণ নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করলে কলের নিরাপত্তাও বেশি নিশ্চিত থাকে।

[ তথ্য: ঢাকা মেইল ]

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Disclaimer

We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ,হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

হাই! আমি ইমন। প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।

Leave a Comment