সকালে মোবাইল ধরার অভ্যাস কেন বাড়াচ্ছে ঝুঁকি
অনেকেই ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে ফোন হাতে নেন, নোটিফিকেশন দেখেন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকে পড়েন। এই অভ্যাসটিই ধীরে ধীরে শরীর ও মনের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর স্বাভাবিকভাবে ধীরে ধীরে সক্রিয় হওয়ার কথা, কিন্তু সেই সময়েই হঠাৎ করে অতিরিক্ত তথ্যের মুখোমুখি হলে মস্তিষ্ককে দ্রুত কাজ শুরু করতে হয়। এতে স্বাভাবিক রিদমে ব্যাঘাত ঘটে এবং অজান্তেই চাপ তৈরি হয়।
মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও কাজের আগ্রহে প্রভাব
দিনের শুরুতেই ফোনে নানা খবর, মেসেজ বা কনটেন্ট চোখে পড়লে সেটি মানসিক অবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এমনিতেই সকালে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে, তার সঙ্গে বাইরের তথ্য যোগ হলে উদ্বেগ বাড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু ওই মুহূর্তেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সারাদিনের মনোযোগ ও কাজের ইচ্ছাতেও প্রভাব ফেলে। ফলে কাজে মন বসতে চায় না, উৎপাদনশীলতাও কমে যায়।
চোখ ও ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত
ঘুম থেকে উঠেই স্ক্রিনের দিকে তাকানো চোখের জন্যও আরামদায়ক নয়। মোবাইলের নীল আলো চোখের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে ড্রাই আইয়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভ্যাস থাকলে দৃষ্টিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে এই আলো শরীরের ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের স্বাভাবিক কাজেও বাধা দেয়, যা ভবিষ্যতে ঘুমের সমস্যার কারণ হতে পারে।
দিনের শুরুটা কীভাবে হওয়া ভালো
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম ভাঙার পর কিছুটা সময় ফোন থেকে দূরে থাকাই ভালো। এই সময়টায় শরীরকে ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে দেওয়া দরকার। পানি পান করা, হালকা নড়াচড়া করা বা দিনের পরিকল্পনা করা এ ধরনের সহজ কাজ দিয়ে শুরু করলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। ছোট এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।





