কিউআর কোড আসল নাকি নকল : মোবাইল ব্যাংকিং ও বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার বিস্তারের ফলে এখন অনেক জায়গায় কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা পরিশোধ করা সাধারণ একটি বিষয় হয়ে গেছে। দোকান, রেস্টুরেন্ট, ডেলিভারি সার্ভিসসহ বিভিন্ন সেবায় গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপ দিয়ে কোড স্ক্যান করে দ্রুত পেমেন্ট করছেন। কিউআর বা Quick Response Code মূলত দুই মাত্রিক একটি বারকোড, যা স্ক্যান করলে নির্দিষ্ট তথ্য বা লিংক মোবাইলে চলে আসে। সাধারণত পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে এই কোড স্ক্যান করা হলে দোকানদার বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য দেখা যায় এবং সেই তথ্য ব্যবহার করেই লেনদেন সম্পন্ন হয়।
কিন্তু প্রযুক্তির সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি প্রতারণার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আসল কোডের জায়গায় পরিবর্তিত বা ভুয়া কোড ব্যবহার করা হয়, যার ফলে ব্যবহারকারী মনে করেন তিনি সঠিক জায়গায় টাকা পাঠাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে অর্থ চলে যায় অন্য অ্যাকাউন্টে। বিশেষ করে জনসমাগম বেশি এমন জায়গা, পার্কিং এলাকা বা অস্থায়ী দোকানে এ ধরনের ঘটনা বেশি দেখা যায়।
পেমেন্টের আগে তথ্য যাচাই করা কেন জরুরি
ডিজিটাল লেনদেনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্ক্যান করার পর প্রাপকের তথ্য ভালোভাবে দেখা। সাধারণত পেমেন্ট অ্যাপ কোড স্ক্যান করার পরে যার কাছে টাকা যাবে তার নাম দেখায়। দোকান বা প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে সেই নামের মিল আছে কি না তা নিশ্চিত করা দরকার। এতে ভুল বা প্রতারণামূলক লেনদেনের সম্ভাবনা কমে।
আরেকটি বিষয় হলো কোডটির শারীরিক অবস্থা খেয়াল করা। অনেক সময় প্রতারকরা আসল কিউআর কোডের ওপর অন্য একটি কাগজ বা স্টিকার লাগিয়ে দেয়। তাই কোড স্ক্যান করার আগে সেটি ভালোভাবে দেখে নেওয়া প্রয়োজন। যদি স্ক্যান করার পর অচেনা কোনো ওয়েবসাইট বা অস্বাভাবিক পেমেন্ট পেজ দেখা যায়, তাহলে লেনদেন না করাই নিরাপদ।
সন্দেহ হলে কী করবেন
যে কোডটি ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি দোকান বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল কোড কি না, তা সরাসরি দোকানদার বা কর্মচারীর কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো। অফিসিয়াল পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্যান করলে নিরাপত্তা তুলনামূলক বেশি থাকে। লেনদেনের সময় অতিরিক্ত তাড়াহুড়া না করাও জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত পেমেন্ট করানোর চেষ্টা করা হয়, যা ব্যবহারকারীকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে। সময় নিয়ে প্রাপকের নাম ও পেমেন্টের পরিমাণ যাচাই করলে ঝুঁকি কমে যায়।
নিরাপদ থাকতে যে বিষয় গুলো মনে রাখা দরকার
অপরিচিত কেউ যদি কোনো কিউআর কোড পাঠায়, সেটি যাচাই না করে স্ক্যান করা উচিত নয়। একইভাবে পাবলিক স্থানে লাগানো কোড ব্যবহার করার আগেও সতর্ক থাকা দরকার। সন্দেহ হলে সরাসরি নম্বর বা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা পাঠানো যেতে পারে। যদি কোনো সমস্যা বা সন্দেহ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট অ্যাপের সাপোর্টে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। ডিজিটাল লেনদেন যত সহজ হচ্ছে, নিরাপত্তার বিষয়টিও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই কিউআর কোড আসল নাকি নকল তা নিশ্চিত করে তারপর পেমেন্ট করলে প্রতারণার সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো সম্ভব। সচেতন ব্যবহারকারীরাই ডিজিটাল পেমেন্টকে নিরাপদ রাখতে পারেন।





