নির্বাচনকে ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত: ৪ দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও পি-টু-পি লেনদেন

৪ দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও পি-টু-পি লেনদেন

৪ দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও পি-টু-পি লেনদেন: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থ লেনদেনের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অর্থ পাঠানোর সুবিধা। মূলত নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অর্থপ্রবাহ ও আর্থিক অনিয়ম ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেনে চার দিনের একটি সাময়িক বিরতি আসছে।

কখন কার্যকর হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এই সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাপ ব্যবহার করে পি-টু-পি লেনদেন করা যাবে না। অর্থাৎ একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের কাছে সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের আওতায় রয়েছে এনপিএসবি’র আইবিএফটি ব্যবস্থার মাধ্যমে হওয়া লেনদেনও।

আরো পড়ুন: ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে ঢুকতে পারবেন কারা—নতুন নিয়ম জানাল নির্বাচন কমিশন

এমএফএস ও ব্যাংকিং সেবায় নজরদারি

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুধু ইন্টারনেট ব্যাংকিং নয়, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেনও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই সময় সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন চিহ্নিত করার জন্য এমএফএস প্রোভাইডারদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আলাদা কুইক রেসপন্স সেল গঠনের কথাও বলা হয়েছে। কোনো অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানাতে হবে এবং নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে।

গ্রাহকদের জন্য কী অর্থ বহন করে এই সিদ্ধান্ত

চার দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের পি-টু-পি সুবিধা এই বাস্তবতায় গ্রাহকদের আগেভাগে প্রয়োজনীয় লেনদেন সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা। এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত অর্থ পাঠানোর সুযোগ না থাকলেও, নির্বাচনকালীন স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা, সাময়িক এই বিধিনিষেধের মাধ্যমে ভোটকে ঘিরে অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়ম কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।