ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে ঢুকতে পারবেন কারা—নতুন নিয়ম জানাল নির্বাচন কমিশন

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে ঢুকতে পারবেন কারা

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে ঢুকতে পারবেন কারা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের পরিবেশ শান্ত ও বিশ্বাসযোগ্য রাখতে কেন্দ্র এবং কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ কেউ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

কারা থাকছেন এই সুবিধার আওতায়

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্র এলাকায় কেবল তিন শ্রেণির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে মোবাইল ফোন রাখার অনুমতি থাকবে। এর মধ্যে রয়েছেন ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ। পাশাপাশি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার বা ভিডিপি সদস্যদের মধ্য থেকে ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট দুইজন আনসার সদস্য এই অনুমতির আওতায় থাকবেন। এ ছাড়া ভোটার, প্রার্থী কিংবা তাদের এজেন্ট কেউই নির্ধারিত এলাকার ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশে প্রথম সরকারি MVNO সিম চালু, বিটিসিএলের সিমে আনলিমিটেড কল ও ডেটা সুবিধা

নির্দেশনা কার্যকরের সময় ও এলাকা

রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের চারশ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। অর্থাৎ শুধু কেন্দ্র নয়, কেন্দ্রের আশপাশের এলাকাতেও এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।

কেন এই সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটগ্রহণ চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার ভোটের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন করতে পারে। ছবি বা ভিডিও ধারণের মাধ্যমে অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কাও থাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ভোটকেন্দ্রে কারা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন, সে বিষয়ে কঠোর ও স্পষ্ট নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।