সাইবার ঝুঁকির মুখে তারহীন হেডফোন ও ইয়ারবাডস, ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সতর্কতা
📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥
সাইবার ঝুঁকির মুখে তারহীন হেডফোন ও ইয়ারবাডস, ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সতর্কতা: স্মার্টফোনের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ আর ঝামেলাহীন ব্যবহারের সুবিধার কারণে তারহীন হেডফোন, ইয়ারবাডস ও ব্লুটুথ স্পিকার এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। গান শোনা, ফোনে কথা বলা বা অনলাইন মিটিং সব ক্ষেত্রেই এই ডিভাইস গুলোর ব্যবহার বাড়ছে। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। জনপ্রিয় তারহীন অডিও ডিভাইসগুলো নীরবে সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গুগলের ফাস্ট পেয়ার প্রযুক্তিতে ধরা পড়েছে গুরুতর দুর্বলতা
বেলজিয়ামের কেইউ ল্যুভেন ইউনিভার্সিটির একদল নিরাপত্তা গবেষক গুগলের তৈরি ‘ফাস্ট পেয়ার’ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করে একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটির সন্ধান পেয়েছেন। ফাস্ট পেয়ার মূলত অ্যান্ড্রয়েড ও ক্রোমওএস ডিভাইসের সঙ্গে ব্লুটুথ অডিও যন্ত্র দ্রুত সংযুক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এই সুবিধাজনক প্রযুক্তির বাস্তবায়নে এমন কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে, যেগুলো কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা সহজেই আশপাশের অডিও ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই দুর্বলতার প্রভাব শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডে সীমাবদ্ধ নয়। সনি, জাবরা, জেবিএল, মার্শাল, শাওমি, নাথিং, ওয়ানপ্লাস, সাউন্ডকোর, লজিটেক এমনকি গুগলের নিজস্ব অডিও ডিভাইসও এই ঝুঁকির আওতায় রয়েছে।
হুইসপারপেয়ার হামলা কীভাবে কাজ করে
নিরাপত্তা গবেষকেরা এই সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণের নাম দিয়েছেন ‘হুইসপারপেয়ার’। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো হ্যাকার যদি মাত্র ৫০ ফুটের মধ্যে অবস্থান করে, তাহলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই নির্দিষ্ট তারহীন হেডফোন বা স্পিকারের সঙ্গে গোপনে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব। একবার সংযোগ তৈরি হয়ে গেলে, ডিভাইসটির ওপর কার্যত ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই অবস্থায় ফোনকলে হঠাৎ বিঘ্ন ঘটতে পারে, নিজের অজান্তেই অন্য অডিও চালু হয়ে যেতে পারে বা অপ্রয়োজনীয় শব্দ শোনা যেতে পারে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, যেসব অডিও ডিভাইসে মাইক্রোফোন রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে আশপাশের কথোপকথন শোনার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের আশঙ্কা আরও ভয়াবহ
গবেষণায় উঠে আসা সবচেয়ে সংবেদনশীল দিকগুলোর একটি হলো অবস্থান শনাক্ত করার সম্ভাবনা। গুগলের ফাইন্ড হাব সুবিধাযুক্ত কিছু অডিও ডিভাইস যদি এই ত্রুটির মাধ্যমে হ্যাক হয়, তাহলে ব্যবহারকারীর চলাচল সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকিতে পড়ে, তেমনি দৈনন্দিন গোপনীয়তাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই ঝুঁকি শুধু অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য নয়। যাঁরা কখনো গুগলের কোনো ডিভাইস ব্যবহার করেননি বা যারা আইফোন ব্যবহার করেন, তারাও এই ধরনের সাইবার হামলার শিকার হতে পারেন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
গুগলের স্বীকারোক্তি ও নিরাপত্তা হালনাগাদ
গবেষকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর গুগল ফাস্ট পেয়ার প্রযুক্তিতে নিরাপত্তা দুর্বলতা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফাস্ট পেয়ার ও ফাইন্ড হাবের নিরাপত্তা নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন আনা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে কিছু নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে এই দুর্বলতার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। গুগলের নিজস্ব অডিও ডিভাইসগুলোর জন্য নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রকাশ করা হয়েছে এবং অ্যান্ড্রয়েডের ফাইন্ড হাব আপডেট করা হয়েছে, যাতে এই কৌশল ব্যবহার করে অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব না হয়।
ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্ক থাকার সময়
এই গবেষণা আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রযুক্তি যত স্মার্ট ও সুবিধাজনক হচ্ছে, নিরাপত্তা ঝুঁকিও তত জটিল আকার নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন ফিচারের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্লুটুথ সংযোগ বন্ধ রাখা এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি। তারহীন হেডফোন বা ইয়ারবাডস ব্যবহারে সামান্য অসতর্কতাই বড় ধরনের গোপনীয়তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
