আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

Vivo Y39 5G 120Hz ডিসপ্লে, Snapdragon চিপসেট আর 6500mAh ব্যাটারি এক ফোনে

📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥

Vivo Y39 5G

Vivo Y39 5G: মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোন বাজারে প্রতিদিনই নতুন মডেল আসছে, কিন্তু খুব কম ফোনই আছে যেগুলো একসাথে ব্যাটারি ব্যাকআপ, টেকসই বিল্ড আর স্মুথ পারফরম্যান্স এই তিনটি দিক সমানভাবে গুরুত্ব দেয়। Vivo Y39 5G ঠিক সেখানেই আলাদা হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের মার্চে লঞ্চ হওয়া এই ফোনটি মূলত এমন ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি, যারা দিনে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, নিয়মিত চার্জের চিন্তা করতে চান না এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুত 5G কানেক্টিভিটি চান।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি:

Vivo Y39 প্রথম দেখাতেই চোখে পড়বে এর পরিষ্কার ও ব্যালান্সড ডিজাইনের জন্য। ৮.৩ মিমি পুরুত্ব আর প্রায় ২০৫ গ্রাম ওজনের ফোনটি হাতে নিলে ভারী মনে হয় না, আবার খুব হালকাও নয় দুইয়ের মাঝামাঝি একটা কমফোর্ট জোন তৈরি করে। Lotus Purple ও Ocean Blue রঙে ফোনটি আলোর উপর নির্ভর করে আলাদা শেড দেখায়, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে একঘেয়েমি আসতে দেয় না।

এই ফোনের বড় শক্তি এর টেকসই গঠন। IP64 রেটিং থাকার কারণে ধুলো বা হালকা পানির ছিটা নিয়ে আলাদা চিন্তা করতে হয় না। পাশাপাশি MIL-STD-810H স্ট্যান্ডার্ড মেনে তৈরি হওয়ায় হঠাৎ পড়ে যাওয়া বা রাফ ব্যবহারে ফোনটি তুলনামূলক নিরাপদ থাকে। সামনের দিকে Schott Glass ব্যবহারের ফলে স্ক্রিন সুরক্ষার দিক থেকেও Vivo এখানে ভালোই মনোযোগ দিয়েছে।

ডিসপ্লে অভিজ্ঞতা:

৬.৬৮ ইঞ্চির বড় IPS LCD ডিসপ্লেটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট আরামদায়ক। রেজোলিউশন HD+ হলেও ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট স্ক্রলিং, সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং কিংবা হালকা গেমিংকে অনেক বেশি স্মুথ করে তোলে। উজ্জ্বলতা সর্বোচ্চ ১০০০ নিট পর্যন্ত যেতে পারে, ফলে রোদে বাইরে ব্যবহার করলেও কনটেন্ট দেখতে সমস্যা হয় না।

ভিডিও দেখা, অনলাইন ক্লাস বা দীর্ঘ সময় পড়াশোনার ক্ষেত্রে আই কমফোর্ট ফিচার চোখের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে। স্টেরিও স্পিকার থাকার কারণে ইউটিউব বা মুভি দেখার সময় সাউন্ড অভিজ্ঞতাও গড়ের চেয়ে ভালো পাওয়া যায়।

পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার: দৈনন্দিন ব্যবহারে নির্ভরযোগ্য

Vivo Y39 5G তে ব্যবহার করা হয়েছে Qualcomm Snapdragon 4 Gen 2 চিপসেট, যা ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি। এই প্রসেসরটি দৈনন্দিন কাজ যেমন মাল্টিটাস্কিং, সোশ্যাল অ্যাপ, অনলাইন ব্রাউজিং কিংবা অফিস অ্যাপ ব্যবহারে খুব সহজেই মানিয়ে নেয়। ৮ জিবি র‍্যামের কারণে একসাথে একাধিক অ্যাপ খোলা রাখলেও ফোন স্লো হয়ে যায় না।

অ্যান্ড্রয়েড ১৫ ভিত্তিক Funtouch OS 15 সফটওয়্যারটি আগের তুলনায় আরও ক্লিন ও স্মুথ অনুভূতি দেয়। Circle to Search এর মতো স্মার্ট ফিচার, সাধারণ ব্যবহারকারীর কাজকে আরও সহজ করে তোলে। হালকা গেমিংয়ের ক্ষেত্রেও ফোনটি স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেয়, যদিও এটি হেভি গেমারদের জন্য বানানো নয়।

ক্যামেরা পারফরম্যান্স:

৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরাটি দিনের আলোতে পরিষ্কার ও ন্যাচারাল ছবি তুলতে সক্ষম। রঙ অতিরঞ্জিত না হয়ে বাস্তবের কাছাকাছি থাকে, যা অনেক ব্যবহারকারীই পছন্দ করেন। পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লারিং স্বাভাবিক দেখায় এবং লো-লাইটেও ক্যামেরা মোটামুটি সন্তোষজনক পারফরম্যান্স দেয়।

সামনের ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা ভিডিও কল বা সাধারণ সেলফির জন্য যথেষ্ট। ভ্লগ বা কনটেন্ট তৈরির জন্য এটি প্রফেশনাল লেভেলের না হলেও দৈনন্দিন প্রয়োজনে ভালোভাবেই কাজ চালিয়ে নেয়।

ব্যাটারি ও চার্জিং: এই ফোনের সবচেয়ে বড় শক্তি

Vivo Y39 5G এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ৬৫০০mAh সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি। সাধারণ ব্যবহারে একবার চার্জে অনায়াসে দেড় থেকে দুই দিন চলতে পারে। যারা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন বা নিয়মিত চার্জ দিতে বিরক্ত, তাদের জন্য এটি বিশাল সুবিধা।

৪৪ ওয়াট ফাস্ট চার্জিংয়ের কারণে বড় ব্যাটারি হলেও চার্জ দিতে বেশি সময় লাগে না। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চার্জ হয়ে যায়, যা দৈনন্দিন জীবনে বেশ কার্যকর।

কানেক্টিভিটি ও অন্যান্য ফিচার

এই ফোনে 5G সাপোর্ট থাকার পাশাপাশি ডুয়াল সিম, Wi-Fi, Bluetooth 5.0 এবং নির্ভরযোগ্য GPS সাপোর্ট রয়েছে। সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দ্রুত কাজ করে এবং ফোন আনলক করা সহজ হয়। যদিও NFC বা FM রেডিও নেই, তবে এই প্রাইস সেগমেন্টে অনেক ব্যবহারকারীর কাছে সেগুলো বড় সমস্যা নাও হতে পারে।

Vivo Y39 দাম: বাংলাদেশ ও ভারত

বাংলাদেশে Vivo Y39 5G-এর সম্ভাব্য দাম প্রায় ২৫,০০০ টাকা (৮ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট)। অন্যদিকে ভারতে এই ফোনটির শুরুর দাম প্রায় ₹১৫,৯৯৯, স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

শেষ কথা

যারা দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ, নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স আর টেকসই বিল্ড চান, তাদের জন্য Vivo Y39 নিঃসন্দেহে একটি বাস্তবসম্মত পছন্দ। এটি হয়তো ক্যামেরা বা ডিসপ্লের দিক থেকে সবচেয়ে ফ্ল্যাগশিপ অনুভূতি দেবে না, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে স্থায়িত্ব আর নির্ভরযোগ্যতার যে চাহিদা, সেখানে Vivo Y39 5G নিজেকে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। 

Disclaimer
We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

Affiliate Disclosure
This post may contain affiliate links. We may receive a commission if you make a purchase through these links, at no extra cost to you. For more details, please visit our Disclaimer Page.
আইটি বিতান
Emon

হাই! আমি ইমন, প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।;

Next Post Previous Post
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url