বিদেশে থেকেও ভোটার আইডি কার্ড? অনেকেই জানেন না এই সহজ নিয়ম
📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥
বিদেশে থেকেও ভোটার আইডি কার্ড: বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। আগে প্রবাসীদের জন্য এই আইডি কার্ড পাওয়া ছিল জটিল ও সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো ব্যবস্থাকে সহজ ও ডিজিটাল করেছে। এখন প্রবাসীরা ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে পারেন এবং নির্ধারিত দূতাবাসে বায়োমেট্রিক দিয়ে ভোটার আইডি সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই আর্টিকেলে বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে প্রবাসীরা কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড পাবেন, কোন ধাপে কী করতে হবে, কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণত কত সময় লাগে। যারা প্রথমবার আবেদন করছেন কিংবা আগের আবেদন অসম্পূর্ণ রয়েছে, তাদের জন্য এই গাইডটি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
প্রবাসীদের জন্য ভোটার আইডি কার্ড কেন গুরুত্বপূর্ণ
জাতীয় পরিচয়পত্র শুধু ভোট দেওয়ার জন্য সীমাবদ্ধ নয়। এটি একজন নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় দলিল। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে এই গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ পাসপোর্ট নবায়ন, বাংলাদেশি ব্যাংকে হিসাব খোলা, জমি সংক্রান্ত কাজ, উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির বিষয় কিংবা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে এনআইডি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
অনেক প্রবাসী দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। নতুন ব্যবস্থার ফলে এখন আর বাংলাদেশে উপস্থিত না থেকেও এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে।
অনলাইনে আবেদন করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু
প্রবাসীরা কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড পাবেন এই প্রশ্নের প্রথম উত্তর হলো অনলাইন আবেদন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রবাসী নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন শুরু করতে হয়। আবেদনকারীর একটি প্রোফাইল তৈরি করার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার সূচনা হয়।
এই ধাপে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার পরিচয়, বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান বিদেশের ঠিকানা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হয়। তথ্যগুলো জাতীয় রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, তাই সামান্য ভুলও আবেদন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। সবকিছু সঠিকভাবে পূরণ হলে আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট নম্বর পাওয়া যায়, যা ভবিষ্যতের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন হয়।
আবেদন যাচাই ও নির্বাচন অফিসের ভূমিকা
অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেকেই মনে করেন কাজ শেষ। বাস্তবে এখান থেকেই শুরু হয় যাচাই প্রক্রিয়া। আবেদনকারীর তথ্য বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে পাঠানো হয়। সেখানে জাতীয় ডাটাবেসের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়।
যাচাই চলাকালীন সময়ে যদি কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়ে, তাহলে আবেদন স্থগিত হতে পারে। তাই শুরুতেই নির্ভুল তথ্য দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যাচাই সফলভাবে সম্পন্ন হলে আবেদনকারীকে পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ বায়োমেট্রিক প্রদানের জন্য প্রস্তুত হতে বলা হয়।
দূতাবাসে বায়োমেট্রিক দেওয়ার প্রক্রিয়া
অনুমোদনের পর প্রবাসীদের নির্ধারিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক দিতে হয়। সাধারণত এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও সময় জানানো হয়। নির্ধারিত দিনে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।
এই ধাপে আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ, চোখের মণির স্ক্যান এবং ছবি সংগ্রহ করা হয়। এটি পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এখান থেকেই একজন প্রবাসী নাগরিক আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন। বায়োমেট্রিক দেওয়ার সময় মূল পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হয়।
ভোটার আইডি কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
প্রবাসীরা কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড পাবেন তা জানতে হলে ডকুমেন্টের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি। আবেদনকারীর বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি ১৭ ডিজিটের অনলাইন যাচাইকৃত জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকতে হয়।
পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি থাকলে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। বর্তমান বিদেশি ঠিকানা প্রমাণের জন্য দূতাবাস নির্ধারিত কোনো ডকুমেন্ট বা প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদও সংযুক্ত করতে বলা হয়। সব ডকুমেন্ট পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করে আপলোড করা হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
কত সময়ে ভোটার আইডি পাওয়া যায়
সময় নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন থাকে। সাধারণভাবে অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই ও বায়োমেট্রিক পর্যন্ত দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এটি দেশভেদে কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পর ডিজিটাল এনআইডি তুলনামূলকভাবে দ্রুত পাওয়া যায়। তবে ফিজিক্যাল স্মার্ট কার্ড তৈরি ও বিতরণে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। স্মার্ট কার্ড সাধারণত দূতাবাসের মাধ্যমেই সংগ্রহ করা হয়।
প্রবাসীদের জন্য ডিজিটাল এনআইডির সুবিধা
ডিজিটাল এনআইডি এখন অনেক সরকারি ও বেসরকারি কাজে গ্রহণযোগ্য। অনলাইনে ডাউনলোড করা এই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা নেওয়া যায়। যারা স্মার্ট কার্ড হাতে পেতে দেরি করছেন, তাদের জন্য এটি বড় একটি স্বস্তি।
শেষকথা
প্রবাসীরা কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড পাবেন এখন আর জটিল নয়। অনলাইন আবেদন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের যাচাই, দূতাবাসে বায়োমেট্রিক এবং ডিজিটাল এনআইডির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে।
সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ধৈর্য ধরে প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করলে প্রবাসীরাও সহজেই জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারেন। যারা এখনো আবেদন করেননি, তাদের জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময় প্রক্রিয়া শুরু করার।
