আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

স্মার্টফোনের ব্যাটারি কেন তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়? জেনে নিন আসল ৫টি কারণ

📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥

স্মার্টফোনের ব্যাটারি কেন তাড়াতাড়ি শেষ

আজকের দিনে স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল। যোগাযোগ, কাজ, বিনোদন সবকিছুই এই ছোট ডিভাইসটির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অনেক ব্যবহারকারীই অভিযোগ করেন, নতুন বা পুরোনো যাই হোক না কেন, ফোনের ব্যাটারি খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। সকালে শতভাগ চার্জ দেওয়া ফোন বিকেলের আগেই লো ব্যাটারির সতর্কতা দেখাতে শুরু করে।

আসলে এই সমস্যার পেছনে শুধু ব্যাটারির দোষ থাকে না, বরং আমাদের ব্যবহার অভ্যাস ও কিছু অজানা কারণ বড় ভূমিকা রাখে।এই ব্লগে আমরা সহজভাবে জানবো স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হওয়ার কারণ গুলো কী এবং কেন এগুলো প্রায় সব ফোনেই দেখা যায়।

ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা অ্যাপ ও অপ্রয়োজনীয় প্রসেস

অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না যে ফোনের স্ক্রিন বন্ধ থাকলেও ভেতরে ভেতরে অনেক অ্যাপ কাজ করে চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ, ক্লাউড সার্ভিস কিংবা লোকেশনভিত্তিক অ্যাপগুলো নিয়মিত ডেটা আপডেট করে। এর ফলে প্রসেসর সক্রিয় থাকে এবং ব্যাটারি ধীরে ধীরে খরচ হতে থাকে। বিশেষ করে যেসব অ্যাপ বারবার নোটিফিকেশন পাঠায়, সেগুলো ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। ব্যবহারকারী যদি এই অ্যাপগুলোর অনুমতি বা ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি নিয়ন্ত্রণ না করেন, তাহলে ফোন যত ভালোই হোক না কেন, চার্জ দ্রুত কমে যাওয়া স্বাভাবিক।

স্ক্রিন সেটিংস ও ডিসপ্লের অতিরিক্ত ব্যবহার

স্মার্টফোনের সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় এর ডিসপ্লে থেকে। বড় স্ক্রিন, উচ্চ রিফ্রেশ রেট এবং সর্বোচ্চ ব্রাইটনেস ব্যাটারির ওপর বড় প্রভাব ফেলে। অনেকেই দিনের পর দিন অটো-ব্রাইটনেস বন্ধ রেখে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় ফোন ব্যবহার করেন। আবার AMOLED বা OLED ডিসপ্লে হলেও ডার্ক মোড ব্যবহার না করে সব সময় হালকা থিম চালু রাখেন। এর ফলে স্ক্রিন দীর্ঘ সময় জ্বলে থাকে এবং ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। যারা নিয়মিত ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রলিং করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি চোখে পড়ে।

দুর্বল নেটওয়ার্ক ও কানেক্টিভিটি সমস্যা

অনেকেই জানেন না যে নেটওয়ার্ক সিগন্যাল দুর্বল হলে ফোনের ব্যাটারি বেশি খরচ হয়। যখন মোবাইল নেটওয়ার্ক বা Wi-Fi সিগন্যাল ঠিকমতো পাওয়া যায় না, তখন ফোন বারবার নেটওয়ার্ক খোঁজার চেষ্টা করে। এই প্রক্রিয়ায় ফোনের অ্যান্টেনা ও প্রসেসর বেশি কাজ করে, ফলে ব্যাটারি দ্রুত নিঃশেষ হতে থাকে। গ্রামাঞ্চল, লিফটের ভেতর বা কংক্রিটের ঘেরা ভবনে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। একইভাবে ব্লুটুথ, লোকেশন ও হটস্পট সারাক্ষণ চালু রাখলেও চার্জ অযথা নষ্ট হয়, যা অনেক ব্যবহারকারী খেয়ালই করেন না।

পুরোনো ব্যাটারি ও চার্জিং অভ্যাসের প্রভাব

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সক্ষমতা কমে আসে। একে বলা হয় ব্যাটারি ডিগ্রেডেশন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ব্যাটারি আগের মতো চার্জ ধরে রাখতে পারে না। এর সঙ্গে যদি ভুল চার্জিং অভ্যাস যোগ হয়, সমস্যা আরও বাড়ে। যেমন সারারাত চার্জে লাগিয়ে রাখা, নকল বা নিম্নমানের চার্জার ব্যবহার করা, কিংবা বারবার শূন্য থেকে শতভাগ পর্যন্ত চার্জ দেওয়া। এসব কারণে ব্যাটারির স্বাস্থ্য নষ্ট হয় এবং ধীরে ধীরে চার্জ দ্রুত শেষ হতে শুরু করে। অনেক সময় ব্যবহারকারী নতুন ফোন কেনার আগেই এই অভ্যাসগুলো ঠিক না করলে একই সমস্যা আবার ফিরে আসে।

সফটওয়্যার আপডেট ও অপ্টিমাইজেশনের ঘাটতি

স্মার্টফোনের সফটওয়্যার ঠিকমতো আপডেট না থাকলেও ব্যাটারি সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম বা বাগযুক্ত আপডেট ফোনের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যাটারির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আবার অনেক সময় নতুন আপডেট ইনস্টল করার পর কিছু অ্যাপ সঠিকভাবে অপ্টিমাইজ না হওয়ায় ব্যাটারি ড্রেন বেড়ে যায়। ব্যবহারকারী যদি নিয়মিত সিস্টেম আপডেট চেক না করেন বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল করে রাখেন, তাহলে ফোনের রিসোর্স অকার্যকরভাবে ব্যবহার হয়। এর ফলেও স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হওয়ার কারণ তৈরি হয়, যা প্রথম দিকে বোঝা না গেলেও ধীরে ধীরে বিরক্তিকর হয়ে ওঠে।

শেষ কথা

স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া কোনো একক সমস্যার ফল নয়। বরং এটি আমাদের ব্যবহার অভ্যাস, সফটওয়্যার সেটিংস এবং হার্ডওয়্যার বয়সের সম্মিলিত প্রভাব। একটু সচেতন হলেই এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ, সঠিক স্ক্রিন সেটিংস ব্যবহার, ভালো নেটওয়ার্কে থাকার চেষ্টা এবং সুস্থ চার্জিং অভ্যাস গড়ে তুললে ব্যাটারির আয়ু যেমন বাড়বে, তেমনি দৈনন্দিন ব্যবহারে বিরক্তিও কমবে। ফোনের ব্যাটারি যত্নে রাখলে সেটি শুধু চার্জই ধরে রাখবে না, বরং আপনার স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকেও আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে।

Disclaimer
We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

Affiliate Disclosure
This post may contain affiliate links. We may receive a commission if you make a purchase through these links, at no extra cost to you. For more details, please visit our Disclaimer Page.
আইটি বিতান
Emon

হাই! আমি ইমন, প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।;

Next Post Previous Post
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url