আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

Infinix Note Edge: নতুন বাজেট Edge ফোন, পাতলা বডির আড়ালে লুকানো বিশাল ৬৫০০mAh ব্যাটারি

📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥

Infinix Note Edge

Infinix Note Edge: বর্তমান স্মার্টফোন বাজারে বাজেট ফোন মানেই আগে যেখানে কিছু ছাড় দিতে হতো, সেখানে ২০২৬ সালের শুরুতেই সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে Infinix Note Edge। ফোনটি এমন ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি, যারা কম দামে দেখতে প্রিমিয়াম, ব্যবহারেও শক্তিশালী একটি ডিভাইস চান। বড় ব্যাটারি, পাতলা ডিজাইন এবং কার্ভড AMOLED ডিসপ্লের মতো ফিচার একসাথে এনে Infinix স্পষ্টভাবে বোঝাতে চাইছে বাজেট মানেই আর সাধারণ নয়।

প্রায় ২০০ ডলারের কাছাকাছি দামে বাজারে আসা Infinix Note Edge মূলত সেইসব মানুষের দিকে তাকিয়ে, যারা দৈনন্দিন কাজে দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, আকর্ষণীয় স্ক্রিন এবং স্মার্ট লুককে গুরুত্ব দেন, কিন্তু মিডরেঞ্জ বা ফ্ল্যাগশিপ দামে যেতে চান না।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি: পাতলা গঠনেই বড় চমক

Infinix Note Edge প্রথম দেখাতেই আলাদা করে নজর কাড়ে এর গড়নের জন্য। মাত্র ৭.২ মিমি পুরুত্বের এই ফোন হাতে নিলে বোঝাই যায়, এটি কোনো সাধারণ বাজেট ডিভাইস নয়। ওজন প্রায় ১৮৬ গ্রামের কাছাকাছি হওয়ায় দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলেও হাতে ভারী লাগে না। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এত পাতলা বডির ভেতরেই রাখা হয়েছে বিশাল ৬,৫০০mAh ব্যাটারি, যা এই সেগমেন্টে সত্যিই বিরল।

ফোনটির সামনে কার্ভড গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে স্ক্রিনটি পাশ থেকে পাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা অনুভূতি দেয়। বেজেল খুবই কম, ফলে পুরো ডিজাইনটি দেখতে অনেক বেশি প্রিমিয়াম মনে হয়।

কার্ভড AMOLED ডিসপ্লে: ফ্ল্যাগশিপের ছোঁয়া

Infinix Note Edge এর অন্যতম বড় শক্তি হলো এর ডিসপ্লে। ৬.৭৮-ইঞ্চির 3D কার্ভড AMOLED স্ক্রিনটি ১.৫কে এর কাছাকাছি রেজোলিউশন সাপোর্ট করে, যা কনটেন্ট দেখা, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা গেমিংয়ের সময় চোখে আরাম দেয়। Infinix এই স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা নিয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী, কারণ এখানে অনেক বেশি পিক ব্রাইটনেস দাবি করা হয়েছে, যা রোদে ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুবিধা।

ডিসপ্লেটি Gorilla Glass 7i দ্বারা সুরক্ষিত, যা এই দামের ফোনে খুব বেশি দেখা যায় না। এতে প্রতিদিনের ব্যবহার, হালকা স্ক্র্যাচ বা দুর্ঘটনাজনিত চাপ থেকে স্ক্রিন নিরাপদ থাকে।

পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার: দৈনন্দিন ব্যবহারে নির্ভরযোগ্য

এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Dimensity 7100 5G চিপসেট, যা শক্তিশালী না হলেও দৈনন্দিন কাজের জন্য যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য। সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও দেখা, ব্রাউজিং কিংবা হালকা-মাঝারি গেমিং সবকিছুতেই ফোনটি স্মুথ পারফরম্যান্স দেওয়ার লক্ষ্যেই তৈরি।

৮GB RAM থাকার কারণে মাল্টিটাস্কিংয়ে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, Infinix এখানে সফটওয়্যার আপডেটের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলছে। Android 16-ভিত্তিক সিস্টেম এবং দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটি আপডেট বাজেট ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট।

ব্যাটারি ও চার্জিং: আসল শক্তি এখানেই

Infinix Note Edge এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে এর ৬,৫০০mAh ব্যাটারি। যারা সারাদিন ফোন ব্যবহার করেন, ম্যাপ, ভিডিও, রিলস কিংবা অনলাইন ক্লাসে সময় কাটান তাদের জন্য এই ব্যাটারি সত্যিকারের স্বস্তির খবর। একবার চার্জ দিলে অনায়াসেই একদিনের বেশি ব্যাকআপ পাওয়ার আশা করা যায়।

শুধু বড় ব্যাটারি দিয়েই থেমে থাকেনি Infinix। ৪৫W ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট থাকার কারণে ফোনটি দ্রুত চার্জ হয়। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টার একটু বেশি সময়েই পুরো চার্জ সম্পন্ন করা সম্ভব, যা বড় ব্যাটারির ফোনের ক্ষেত্রে বেশ চমৎকার।

ক্যামেরা ও অন্যান্য ফিচার: প্রয়োজনীয় সবকিছুই আছে

ক্যামেরার দিক থেকে Infinix Note Edge বাস্তবসম্মত অবস্থানে রয়েছে। পেছনে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং সামনে ১৩ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। খুব বেশি এক্সপেরিমেন্টাল ফিচার না থাকলেও, দৈনন্দিন ছবি ও সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ক্যামেরা যথেষ্ট ভালো পারফরম্যান্স দেবে বলেই আশা করা যায়।

এছাড়া ফোনটিতে IP65 রেটিং থাকায় ধুলো ও হালকা পানির ছিটা নিয়ে চিন্তা কম। ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার থাকার কারণে ভিডিও দেখা বা গান শোনার অভিজ্ঞতাও উন্নত হয়।

দাম ও অবস্থান: কেন Infinix Note Edge আলাদা

বাজেট সেগমেন্টে সাধারণত ফোন গুলোকে কোনো না কোনো জায়গায় ছাড় দিতে হয়। কিন্তু Infinix Note Edge চেষ্টা করেছে ডিজাইন, ব্যাটারি এবং ডিসপ্লে এই তিনটি বিষয় একসাথে দিতে। বিভিন্ন রঙের অপশন এবং বিশেষ টেক্সচারযুক্ত ফিনিশ ফোনটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

যারা কম দামে দেখতে প্রিমিয়াম ফোন চান, দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ চান এবং ভবিষ্যতের সফটওয়্যার আপডেট নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে চান, তাদের জন্য Infinix Note Edge নিঃসন্দেহে ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত বাজেট স্মার্টফোন হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, Infinix Note Edge শুধু আরেকটি বাজেট ফোন নয়; এটি এমন একটি ডিভাইস, যা প্রমাণ করতে চায় কম দামে ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া এখন আর স্বপ্ন নয়।

Disclaimer
We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

Affiliate Disclosure
This post may contain affiliate links. We may receive a commission if you make a purchase through these links, at no extra cost to you. For more details, please visit our Disclaimer Page.
আইটি বিতান
Emon

হাই! আমি ইমন, প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।;

Next Post Previous Post
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url