আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

আন-অফিশিয়াল ফোন IMEI দিয়ে চেক করার উপায়: জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কোন ফোন অফিসিয়াল হচ্ছে?

📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥

আন-অফিশিয়াল ফোন IMEI দিয়ে চেক করার উপায়

আন-অফিশিয়াল ফোন IMEI দিয়ে চেক করার উপায়: বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্বস্তিকর সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছিল। হঠাৎ সিম কাজ না করা, নেটওয়ার্ক চলে যাওয়া কিংবা IMEI ব্লক হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অনেকের দৈনন্দিন ব্যবহারকে বিপর্যস্ত করেছে। বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে আনা বা আন-অফিশিয়াল মোবাইল ব্যবহার করতেন, তাদের দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না।

এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা BTRC জানুয়ারি ২০২৬ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগে থেকেই ব্যবহৃত অনেক আন-অফিশিয়াল মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অফিসিয়াল হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

আন-অফিশিয়াল মোবাইল বলতে কী বোঝায়?

সহজভাবে বলতে গেলে, যেসব মোবাইল ফোন সরকারি শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া দেশে এসেছে এবং BTRC-এর NEIR ডাটাবেজে নিবন্ধিত ছিল না, সেগুলোই আন-অফিশিয়াল মোবাইল হিসেবে পরিচিত। সাধারণত এসব ফোন ব্যক্তিগতভাবে বিদেশ থেকে আনা হয় বা অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করে। ব্যবহারকারী অনেক সময় বিষয়টি না জেনেই ফোন ব্যবহার শুরু করেন এবং পরে সমস্যায় পড়েন।

আরো পড়ুন: চার্জ দেওয়ার সময় ফোনের কভার কেন খুলে রাখা উচিত

কেন এই সিদ্ধান্ত নিল BTRC?

BTRC এই পদক্ষেপ নেওয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো। দেশে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের একটি বড় অংশ আন-অফিশিয়াল হওয়ায় হঠাৎ করে ফোন বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবহারকারীরা মারাত্মক সমস্যায় পড়ছিলেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল সেবার আওতা বাড়ানো, সবাইকে নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া এবং IMEI সংক্রান্ত অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করাও ছিল এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।

সব আন-অফিশিয়াল ফোন কি অফিসিয়াল হয়ে যাবে?

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি। সব আন-অফিশিয়াল মোবাইল একসাথে অফিসিয়াল হয়ে যাবে এমন নয়। সাধারণত যেসব ফোন জানুয়ারি ২০২৬-এর আগেই দেশে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার হচ্ছিল, যেগুলো কোনো অপরাধমূলক কাজে যুক্ত নয় এবং যাদের IMEI নম্বর বৈধ ও ইউনিক, সেগুলো অফিসিয়াল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। অর্থাৎ ফোনটির ব্যবহার ইতিহাস এবং IMEI স্ট্যাটাস এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আন-অফিশিয়াল IMEI দিয়ে চেক করার উপায় কী?

এখন সবার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো নিজের ফোনটি অফিসিয়াল হয়েছে কিনা তা কীভাবে বোঝা যাবে। আন-অফিশিয়াল IMEI দিয়ে চেক করার উপায় জানা থাকলে বিষয়টি খুব সহজেই নিশ্চিত করা যায়।

প্রথমেই ফোনের IMEI নম্বর জানতে হবে। এজন্য মোবাইলের ডায়াল প্যাডে *#06# ডায়াল করলেই স্ক্রিনে ১৫ সংখ্যার একটি নম্বর দেখা যাবে। ডুয়াল সিম ফোন হলে দুটি IMEI নম্বর দেখা যেতে পারে।

এরপর সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো এসএমএসের মাধ্যমে চেক করা। মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে শুধু IMEI নম্বরটি লিখে ৩৩৩ নম্বরে পাঠাতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রিপ্লাই মেসেজ আসবে, যেখানে ফোনের বর্তমান স্ট্যাটাস উল্লেখ থাকবে। এতে বোঝা যাবে ফোনটি অফিসিয়াল, আন-অফিশিয়াল নাকি এখনো প্রক্রিয়াধীন।

চাইলেই অনলাইনের মাধ্যমেও যাচাই করা যায়। BTRC-এর NEIR সিস্টেমের ওয়েবসাইটে গিয়ে IMEI নম্বর ইনপুট দিয়ে চেক করলে একই তথ্য পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিটি বিশেষ করে তাদের জন্য সুবিধাজনক, যারা বিস্তারিত তথ্য দেখতে চান।

এখনো অফিসিয়াল না হলে কি চিন্তার কারণ আছে?

অনেক ব্যবহারকারী IMEI চেক করে দেখছেন যে তাদের ফোন এখনো অফিসিয়াল দেখাচ্ছে না। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ সব ফোন একসাথে আপডেট হচ্ছে না। NEIR ডাটাবেজ ধাপে ধাপে হালনাগাদ করা হচ্ছে, ফলে কিছু ফোনের স্ট্যাটাস আপডেট হতে সময় লাগতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিছুদিন পর আবার চেক করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

অফিসিয়াল হলে কী সুবিধা মিলবে?

একবার ফোন অফিসিয়াল হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে গেলে ব্যবহারকারীর দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যাবে। তখন আর হঠাৎ সিম বন্ধ হওয়ার ভয় থাকবে না, সব মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে এবং 4G বা 5G সাপোর্ট নিয়েও সমস্যা হবে না। ভবিষ্যতে ফোন বিক্রি বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

ভুয়া বা ক্লোন IMEI হলে কী হবে?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জানা দরকার। যেসব ফোনে ক্লোন বা ডুপ্লিকেট IMEI ব্যবহার করা হয়েছে, অথবা যেসব IMEI কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলো কোনোভাবেই অফিসিয়াল হওয়ার সুযোগ পাবে না। বরং ভবিষ্যতে এসব IMEI স্থায়ীভাবে ব্লক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ফোন কেনার আগে IMEI যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। অস্বাভাবিক কম দামে ফোন কিনলে ভবিষ্যতে ঝামেলায় পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নিরাপদ থাকতে হলে অথরাইজড শপ ও অফিসিয়াল চ্যানেল থেকেই ফোন কেনা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

শেষ কথা

জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। যারা এতদিন আন-অফিশিয়াল ফোন ব্যবহার করে অনিশ্চয়তায় ছিলেন, তারা এখন ধীরে ধীরে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার আওতায় আসছেন। আন-অফিশিয়াল IMEI দিয়ে চেক করার উপায় জানা থাকলে নিজের ফোনের অবস্থা বুঝে নেওয়া এখন আর কঠিন কিছু নয়।

এই তথ্যটি যদি আপনার কাজে লাগে, তাহলে অন্যদের সাথেও শেয়ার করুন কারণ সঠিক তথ্যই পারে বিভ্রান্তি দূর করতে।

Disclaimer
We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

Affiliate Disclosure
This post may contain affiliate links. We may receive a commission if you make a purchase through these links, at no extra cost to you. For more details, please visit our Disclaimer Page.
আইটি বিতান
Emon

হাই! আমি ইমন, প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।;

Next Post Previous Post
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url