Vivo iQOO Z11 Turbo দাম কত টাকা ও ফুল Specifications
📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥
![]() |
| Picture: Vivo iQOO Z10 Turbo |
Vivo iQOO Z11 Turbo দাম কত: Vivo iQOO Z11 Turbo স্মার্টফোনটি এখনো অফিসিয়ালি ঘোষণা না হলেও এটি ইতোমধ্যেই টেক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শক্তিশালী পারফরম্যান্স, বড় ব্যাটারি ও ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের কিছু ফিচার থাকার কারণে ফোনটি মিড-রেঞ্জ ও হাই-এন্ড ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি কেড়েছে। নিচে Vivo iQOO Z11 Turbo এর সব তথ্য বিস্তারিতভাবে প্যারাগ্রাফ আকারে তুলে ধরা হলো।
Pros
Vivo iQOO Z11 Turbo তে রয়েছে ৬.৫৯ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে, যা ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে। ফলে গেমিং ও স্ক্রলিং হবে অত্যন্ত স্মুথ। ফোনটিতে শক্তিশালী Dimensity 8400 চিপসেটের কথা বলা হলেও স্পেসিফিকেশন তালিকায় Qualcomm Snapdragon 8 Gen 5 উল্লেখ করা হয়েছে, যা একে পারফরম্যান্সের দিক থেকে অনেক এগিয়ে রাখবে। ১২ জিবি ও ১৬ জিবি র্যাম অপশন থাকায় মাল্টিটাস্কিং হবে নিরবচ্ছিন্ন। স্টেরিও স্পিকার, NFC এবং ইনফ্রারেড পোর্ট থাকার কারণে দৈনন্দিন ব্যবহার আরও সুবিধাজনক হবে। ইন ডিসপ্লে অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ৭৬০০ এমএএইচ Si/C ব্যাটারি এবং ৯০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং, যা দীর্ঘ সময় ব্যবহার ও দ্রুত চার্জিংয়ের নিশ্চয়তা দেয়।
Cons
এই ফোনটিতে IP68 ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স নেই, যা অনেক ব্যবহারকারীর জন্য হতাশার কারণ হতে পারে। রিয়ার ক্যামেরা সেটআপে ডুয়াল ক্যামেরা থাকলেও দ্বিতীয় ক্যামেরাটি মাত্র ২ মেগাপিক্সেলের, যা ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে। এছাড়া ৩.৫ মিমি অডিও জ্যাক না থাকায় ওয়্যার্ড হেডফোন ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত অ্যাডাপ্টারের প্রয়োজন হবে।
অফিসিয়াল নয়, তবে সম্ভাব্য অবস্থা
Vivo iQOO Z11 Turbo এর স্পেসিফিকেশন গুলো এখনো অফিসিয়ালি ঘোষণা করা হয়নি। ফোনটির সম্ভাব্য দাম Coming soon হিসেবে ধরা হচ্ছে। লঞ্চ স্ট্যাটাস এখনো Rumored অবস্থায় রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় আছে।
নেটওয়ার্ক ও কানেক্টিভিটি
এই স্মার্টফোনটি GSM, HSPA, LTE এবং 5G নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করবে। ২জি নেটওয়ার্কে GSM 850, 900, 1800 ও 1900 ব্যান্ড সাপোর্ট থাকবে। ৩জি নেটওয়ার্কে HSDPA 800, 850, 900 ও 2100 ব্যান্ড, আর ৪জি নেটওয়ার্কে 1, 3, 5, 8, 28, 34, 38, 39, 40 ও 41 ব্যান্ড সাপোর্ট করবে। ৫জি নেটওয়ার্কে 1, 3, 5, 8, 28, 34, 38, 39, 40, 41, 48, 77 ও 78 ব্যান্ড SA/NSA সাপোর্টসহ পাওয়া যাবে। নেটওয়ার্ক স্পিড হিসেবে HSPA, LTE এবং 5G সাপোর্ট থাকবে।
ডিজাইন ও বডি
Vivo iQOO Z11 Turbo এর ডাইমেনশন ও ওজন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফোনটির সামনে গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে, আর পেছনে ও ফ্রেমে প্লাস্টিক বিল্ড দেওয়া হয়েছে। এতে ডুয়াল Nano SIM সাপোর্ট থাকবে, যা একই সঙ্গে দুইটি সিম ব্যবহারের সুবিধা দেবে।
ডিসপ্লে
ফোনটিতে AMOLED ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ১ বিলিয়ন কালার সাপোর্ট করে। ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, HDR সাপোর্ট এবং ২০০০ নিটস HBM ও সর্বোচ্চ ৪৪০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস থাকার কারণে সূর্যের আলোতেও স্ক্রিন স্পষ্ট দেখা যাবে। ৬.৫৯ ইঞ্চির এই ডিসপ্লের রেজোলিউশন ১২৬০ × ২৮০০ পিক্সেল এবং Always-on Display ফিচারও থাকছে।
পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার
Vivo iQOO Z11 Turbo চলবে Android 16 অপারেটিং সিস্টেমে। চিপসেট হিসেবে Qualcomm Snapdragon 8 Gen 5 উল্লেখ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত শক্তিশালী ও আধুনিক একটি প্রসেসর। CPU ও GPU সংক্রান্ত বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি, তবে ফ্ল্যাগশিপ-লেভেলের পারফরম্যান্স আশা করা যাচ্ছে।
মেমোরি ও স্টোরেজ
এই ফোনে কোনো মেমোরি কার্ড স্লট নেই। ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে ২৫৬ জিবি ও ৫১২ জিবি অপশন থাকবে। র্যাম হিসেবে ১২ জিবি ও ১৬ জিবি পাওয়া যাবে। ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে 12GB 256GB, 16GB 256GB, 12GB 512GB এবং 16GB 512GB অপশন থাকতে পারে।
ক্যামেরা
Vivo iQOO Z11 Turbo তে ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ দেওয়া হয়েছে। প্রধান ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেলের, সঙ্গে রয়েছে ২ মেগাপিক্সেলের সেকেন্ডারি ক্যামেরা। ক্যামেরা ফিচারের মধ্যে রয়েছে কালার স্পেকট্রাম সেন্সর, LED ফ্ল্যাশ, HDR ও প্যানোরামা। ভিডিও রেকর্ডিং করা যাবে 4K ও 1080p রেজোলিউশনে, যেখানে gyro-EIS এবং OIS সাপোর্ট থাকবে। সামনে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা, যা 1080p@30fps ভিডিও রেকর্ডিং এবং gyro EIS সাপোর্ট করবে।
অডিও ও সাউন্ড
এই ফোনে স্টেরিও স্পিকারসহ লাউডস্পিকার দেওয়া হয়েছে, যা ভালো অডিও এক্সপেরিয়েন্স দেবে। তবে এতে ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক নেই।
কানেক্টিভিটি ফিচার
Vivo iQOO Z11 Turbo-তে Wi-Fi 802.11 a/b/g/n/ac/6 ডুয়াল ব্যান্ড সাপোর্ট থাকবে। ব্লুটুথ ৬.০, A2DP, LE এবং aptX HD সাপোর্ট করবে। GPS হিসেবে GPS (L1+L5), BDS, GALILEO, QZSS, NavIC এবং GLONASS সাপোর্ট পাওয়া যাবে। NFC সাপোর্ট থাকলেও FM রেডিও নেই। USB Type-C 2.0 পোর্ট ও OTG সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইনফ্রারেড পোর্ট থাকায় রিমোট কন্ট্রোল হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
সেন্সর ও নিরাপত্তা
ফোনটিতে আন্ডার ডিসপ্লে অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে। এর পাশাপাশি অ্যাক্সিলোমিটার, জাইরো, প্রক্সিমিটি এবং কম্পাস সেন্সরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ব্যাটারি ও চার্জিং
Vivo iQOO Z11 Turbo তে রয়েছে নন-রিমুভেবল Si/C Li-Ion ব্যাটারি, যার ক্যাপাসিটি ৭৬০০ এমএএইচ। ৯০ ওয়াট ওয়্যার্ড ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট থাকার কারণে খুব অল্প সময়েই ফোন চার্জ করা যাবে।
অন্যান্য তথ্য
এই স্মার্টফোনটি চীনে তৈরি। রঙের অপশন হিসেবে White, Black, Orange এবং Gold পাওয়া যেতে পারে।
শেষকথা
সব মিলিয়ে Vivo iQOO Z11 Turbo একটি শক্তিশালী ব্যাটারি, ফাস্ট চার্জিং, প্রিমিয়াম ডিসপ্লে ও আধুনিক কানেক্টিভিটি ফিচারসহ একটি সম্ভাবনাময় স্মার্টফোন হতে যাচ্ছে। যদিও এখনো এটি Rumored পর্যায়ে রয়েছে, তবুও অফিসিয়াল ঘোষণা এলে ফোনটি মিড-রেঞ্জ ও ফ্ল্যাগশিপ বাজারে বড় প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। যারা দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ ও শক্তিশালী পারফরম্যান্স চান, তাদের জন্য Vivo iQOO Z11 Turbo একটি নজরকাড়া অপশন হতে পারে।
