(Tcb Card) টিসিবি ডিলার কমিশন কত টাকা এবং কীভাবে পাওয়া যায়?
📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥
টিসিবি ডিলার কমিশন কত টাকা : বাংলাদেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে রমজান মাস, দুর্যোগকাল কিংবা বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির সময় টিসিবির কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্র বিন্দুতে আছেন টিসিবি অনুমোদিত ডিলাররা।
ফলে স্বাভাবিক ভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে টিসিবি ডিলার কমিশন কত টাকা, এই কমিশন দিয়ে আসলে কতটা আয় হয় এবং এটি আদৌ লাভজনক কি না।এই ব্লগে টিসিবি ডিলার কমিশন সংক্রান্ত বিষয় গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করা হয়েছে,যাতে একটি পরিষ্কার ধারণা পান।
টিসিবি ডিলার বলতে কাদের বোঝায়
টিসিবি ডিলার মূলত সেই ব্যক্তি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যাদের সরকারি ভাবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করে এবং নির্ধারিত দামে সাধারণ জনগণের কাছে বিক্রির দায়িত্ব দেয়। ডিলাররা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করতে পারেন না এবং বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও টিসিবির তদারকির আওতায় পরিচালিত হয়।
বর্তমানে ডিলাররা সাধারণত ট্রাক সেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করেন, ওয়ার্ড ভিত্তিক বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং ফ্যামিলি কার্ড বা Tcb Card এর আওতায় নির্ধারিত উপকার ভোগীদের মধ্যে পণ্য বিতরণ করেন। এই তিনটি মাধ্যমেই ডিলারদের কমিশন কাঠামো কার্যকর হয়।
টিসিবি ডিলার কমিশন কত টাকা
টিসিবি ডিলার কমিশন কোনো একক নির্দিষ্ট অঙ্কে স্থায়ী ভাবে নির্ধারিত থাকে না। এটি পণ্যের ধরন, পরিবহন ব্যয়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সময় ভেদে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। তবে মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে যে কমিশন কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটি সাধারণত একটি সীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করে।
সাধারণত ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে ডিলাররা প্রতি লিটারে আনুমানিক দুই থেকে তিন টাকা কমিশন পান। চিনি, মসুর ডাল কিংবা ছোলার মতো পণ্যে প্রতি কেজিতে দেড় থেকে দুই টাকার কাছাকাছি কমিশন নির্ধারিত থাকে। বিশেষ সময়ে চাল বা পেঁয়াজ বিক্রি হলে সেগুলোতেও এক থেকে দেড় টাকার মতো কমিশন যোগ হয়।
আরো পড়ুন: অ্যাপে অনলাইনে জমির খতিয়ান দেখার নিয়ম
এই হারগুলো সরকারি ভাবে আলাদা কোনো বিজ্ঞপ্তিতে বিশদভাবে প্রকাশ না হলেও জেলা প্রশাসন ও ডিলারদের মধ্যে নির্ধারিত চুক্তির মাধ্যমে কার্যকর থাকে। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার ভাবে বোঝা জরুরি এই কমিশন কোনো অতিরিক্ত মুনাফা নয়, বরং পণ্য বিতরণ ও বিক্রির দায়িত্ব পালনের পারিশ্রমিক।
কমিশন কীভাবে সমন্বয় করা হয়
অনেকেই মনে করেন টিসিবি ডিলাররা আলাদা করে কমিশনের টাকা হাতে পান। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। টিসিবি ডিলার কমিশন মূল পণ্যের দামের সঙ্গে আগেই সমন্বয় করা থাকে। অর্থাৎ ডিলার যখন টিসিবির গুদাম বা নির্ধারিত ডিপো থেকে পণ্য উত্তোলন করেন, তখন কমিশন বাদ দিয়েই তাকে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে হয়।
এই পদ্ধতির ফলে আলাদা করে কমিশন প্রদান বা হিসাব সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয় না এবং পুরো ব্যবস্থাটি স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
Tcb Card ব্যবস্থায় ডিলার কমিশনের বাস্তবতা
ফ্যামিলি কার্ড বা Tcb Card ভিত্তিক বিক্রয় ব্যবস্থায় ডিলারদের দায়িত্ব তুলনামূলক ভাবে বেশি। এখানে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী উপকার ভোগীদের পণ্য দিতে হয়, পরিচয় যাচাই করতে হয় এবং প্রতিটি লেনদেনের হিসাব প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হয়।
এই ব্যবস্থায় কমিশনের হার সাধারণ ট্রাক সেলের মতোই থাকে, তবে কাজের চাপ বেশি হওয়ায় অনেক ডিলার মনে করেন কমিশনের অঙ্ক বাস্তব শ্রমের তুলনায় খুব বেশি নয়। তবুও সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে অধিকাংশ ডিলার এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকেন।
একজন টিসিবি ডিলার মাসে কত আয় করতে পারেন
টিসিবি ডিলারের আয় পুরোপুরি নির্ভর করে পণ্য সরবরাহের পরিমাণ ও বিক্রির দিনের ওপর। প্রতিদিন গড়ে কয়েকশো থেকে হাজার খানেক ফ্যামিলি কার্ডের পণ্য বিতরণ হলে একজন ডিলার আনুমানিক তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন আয় করতে পারেন।
মাস হিসেবে হিসাব করলে, যদি বিশ থেকে পঁচিশ দিন নিয়মিত বিক্রি হয়, তাহলে মোট কমিশন আয় ষাট হাজার থেকে এক লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে এটি কোনো স্থায়ী আয় নয়। অনেক মাসেই টিসিবির কার্যক্রম সীমিত থাকে বা একেবারেই থাকে না।
কমিশনের বাইরে ডিলারদের যেসব খরচ থাকে
টিসিবি ডিলার কমিশন শুনতে ভালো লাগলেও এর বিপরীতে কিছু বাস্তব খরচ আছে, যেগুলো হিসাব না করলে প্রকৃত লাভ বোঝা যায় না। পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রাক ভাড়া, লোড ও আনলোডের শ্রমিক খরচ, বিক্রয়স্থলে কর্মী নিয়োগ, কখনো কখনো অস্থায়ী শেড বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার খরচ ডিলারকেই বহন করতে হয়।
এ ছাড়া প্রশাসনিক নির্দেশনা মানতে গিয়ে সময় ও মানসিক চাপও একটি অদৃশ্য খরচ হিসেবে কাজ করে। এসব খরচ বাদ দেওয়ার পর ডিলারের হাতে যে অর্থ থাকে, সেটিই প্রকৃত লাভ।
টিসিবি ডিলার কমিশন কি সব সময় একই থাকে
টিসিবি ডিলার কমিশন স্থায়ী কোনো কাঠামো নয়। বাজার পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, সরকারের ভর্তুকি নীতি এবং বিশেষ সময় যেমন রমজান বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর ভিত্তি করে কমিশনে সামান্য পরিবর্তন আনা হতে পারে।
তবে সাধারণত এই পরিবর্তন খুব বড় আকারে হয় না এবং সারাদেশে প্রায় একই হারে কমিশন কার্যকর থাকে, যাতে কোনো এলাকায় বৈষম্য তৈরি না হয়।
কমিশনের গুরুত্ব কেন এত বেশি
টিসিবির বিশাল পণ্য বিতরণ ব্যবস্থা ডিলারদের ছাড়া কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব। কমিশন মূলত ডিলারদের এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে। এটি না থাকলে নিয়মিত পণ্য উত্তোলন, সঠিক দামে বিক্রি এবং প্রশাসনিক নিয়ম মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ত।
ডিলার কমিশনের মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করে, অন্যদিকে তেমনই কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
টিসিবি ডিলার কমিশন নিয়ে সাধারণ বিভ্রান্তি
অনেকেই মনে করেন টিসিবি ডিলাররা এই কমিশনের মাধ্যমে বিপুল লাভ করেন। বাস্তবে এটি একটি সীমিত আয়ের ব্যবস্থা, যেখানে সামাজিক দায়িত্বের দিকটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই এবং নিয়ম ভাঙলে আইনগত ব্যবস্থার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে এটিকে সাধারণ ব্যবসার মতো দেখার সুযোগ কম।
শেষকথা
টিসিবি ডিলার কমিশন কত টাকা এই প্রশ্নের সরল উত্তর হলো, এটি খুব বেশি নয়, আবার একেবারে নগণ্যও নয়। এটি একটি নিয়ন্ত্রিত, স্বচ্ছ এবং তুলনামূলক ভাবে ঝুঁকিহীন আয়ের ব্যবস্থা, যা মূলত সামাজিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত।
যারা সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, সীমিত লাভে সন্তুষ্ট এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা রাখেন, তাদের জন্য টিসিবি ডিলার হওয়া একটি বাস্তবসম্মত সুযোগ। বিশেষ করে Tcb Card ভিত্তিক কার্যক্রমে যুক্ত ডিলাররা সরাসরি সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পান,যা শুধু টাকার হিসাবে মাপা যায় না।
নোট: টিসিবি ডিলার কমিশন ও কার্যক্রম সময় ও সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য স্থানীয় প্রশাসন বা টিসিবি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
