৫টির বেশি সিম থাকলে সতর্ক হোন - ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে নতুন নিয়ম
📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥
৫টির বেশি সিম থাকলে সতর্ক হোন: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মোবাইল সিম ব্যবহারে শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) নতুন সিম নিবন্ধন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জানিয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে একজন গ্রাহকের নামে নির্ধারিত সীমার বেশি সিম কার্ড থাকলে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্ত সরাসরি দেশের কোটি কোটি মোবাইল গ্রাহকের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে যাদের নামে পাঁচটির বেশি সিম নিবন্ধিত রয়েছে, তাদের জন্য এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি।
নতুন নিয়মে কতটি সিম রাখা যাবে
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ পাঁচটি সিম কার্ড নিবন্ধন করতে পারবেন। এর আগে যেখানে একজনের নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিম নিবন্ধনের সুযোগ ছিল, সেখানে এখন সেই সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।
১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। অর্থাৎ ওই তারিখের পর একজন গ্রাহকের নামে যদি পাঁচটির বেশি সক্রিয় সিম থাকে, তাহলে অতিরিক্ত সিমগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
যাদের নামে বেশি সিম আছে তাদের ক্ষেত্রে কী হবে
বর্তমানে অনেক গ্রাহকের নামে ছয় থেকে দশটি বা তারও বেশি সিম নিবন্ধিত রয়েছে। নতুন নিয়ম একদিনে হঠাৎ করে কার্যকর করা হচ্ছে না। বরং ধাপে ধাপে এই সীমা কার্যকর করা হবে।
বিটিআরসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহক যদি নিজের নামে থাকা অতিরিক্ত সিম স্বেচ্ছায় বাতিল না করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটর সেগুলো পর্যায়ক্রমে ডি-অ্যাকটিভ বা বন্ধ করে দেবে।
কেন সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো
এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক গুরুতর কারণ রয়েছে। বিটিআরসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিম বিক্রির সময় কিছু অসাধু বিক্রেতা গ্রাহকের অজান্তেই তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করছে।
পরবর্তীতে সেই তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকের নামে একাধিক অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করা হচ্ছে, যা গ্রাহক নিজেও জানেন না। এতে করে প্রতারণা, অবৈধ কল, আর্থিক জালিয়াতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
এছাড়া একই দিনে একজন গ্রাহকের দুইটির বেশি সিম কেনার ঘটনাও নজরে এসেছে, যা স্বাভাবিক ব্যবহার হিসেবে ধরা যায় না। এসব অনিয়ম ঠেকাতেই সিম ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
বায়োমেট্রিক তথ্যের অপব্যবহার রোধই মূল লক্ষ্য
বিটিআরসির ভাষ্য অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই তথ্য একবার ভুল হাতে পড়লে গ্রাহক নিজেও বিপদে পড়তে পারেন।
অতিরিক্ত সিম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রাথমিকভাবে আইনি জটিলতায় পড়েন সেই এনআইডি মালিকই। তাই গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিচয় চুরি রোধ করতেই একজনের নামে সিমের সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশে বর্তমানে সিম ব্যবহারের চিত্র
বিটিআরসির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোট সিম কার্ডের সংখ্যা প্রায় ২৬ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে সক্রিয় সিম রয়েছে প্রায় ১৯ কোটি। অক্টোবর মাস পর্যন্ত দেশে মোট মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ। এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের কারণে সিম ব্যবস্থাপনাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
অপারেটর ভিত্তিক গ্রাহক সংখ্যার অবস্থা
মোবাইল অপারেটরগুলোর মধ্যে গ্রামীণফোন এখনও গ্রাহক সংখ্যায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এর পরেই রয়েছে রবি, বাংলালিংক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক। গত ১০ বছরে দেশে মোবাইল সিম ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। এই দ্রুত বৃদ্ধিই সরকারকে নতুন করে নীতিমালা কঠোর করতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অতিরিক্ত সিম বাতিল না করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে
যেসব গ্রাহকের নামে এখনও পাঁচটির বেশি সক্রিয় সিম রয়েছে এবং তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলো বাতিল করেননি, তাদের সিম সরাসরি অপারেটরের মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হবে।বিটিআরসি জানিয়েছে, তিন মাস সময় দেওয়ার পরও যারা ডি-রেজিস্ট্রেশন করেননি, তাদের ক্ষেত্রে আর কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে সব অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করা হবে।এতে হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ নম্বর বন্ধ হয়ে যাওয়া, ব্যাংকিং ও ডিজিটাল সেবায় সমস্যার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এখন করণীয় কী
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের নামে কতটি সিম নিবন্ধিত রয়েছে তা যাচাই করা। যদি দেখা যায় পাঁচটির বেশি সিম রয়েছে, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার বা অপারেটর সেন্টারে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিম বাতিল করা উচিত।
প্রয়োজনে ব্যবহৃত সিমের মালিকানা পরিবর্তন করেও সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে হঠাৎ সিম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে।একই সঙ্গে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
শেষকথা
এই সিদ্ধান্ত দেশের মোবাইল সেবা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে একদিকে যেমন অবৈধ সিম ব্যবহার ও প্রতারণা কমবে, অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।আপনার নামে অতিরিক্ত সিম থাকলে দেরি না করে এখনই ব্যবস্থা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতন থাকলে ভবিষ্যতের বড় ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
