রমজান কবে শুরু হচ্ছে, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময়সূচি
📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥
রমজান কবে শুরু হচ্ছে : নতুন বছরকে সামনে রেখে মুসলিম বিশ্বে রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক পরিকল্পনারও একটি সময়। রমজান শুরুর তারিখ জানা থাকলে মানুষ নিজেদের ইবাদত, ছুটি ও পারিবারিক আয়োজন গুলো পরিকল্পনা করতে পারেন।
রমজান মাসের গুরুত্ব ও আগাম প্রস্তুতির প্রয়োজন
রমজান মাস মুসলিম জীবনের একটি আত্মিক পুনর্জাগরণের সময়। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ নিজের ভেতরের সংযম ও ধৈর্যকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে। তাই রমজান কবে শুরু হচ্ছে এটি জানা মানে কেবল ক্যালেন্ডার দেখা নয়, বরং মানসিক ও পারিবারিক প্রস্তুতির সূচনা। কর্মজীবী মানুষ ছুটি, অফিস শিডিউল, ভ্রমণ কিংবা পারিবারিক সময় ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনাও এই সময় ঘিরে সাজিয়ে নেন।
জ্যোতির্বিদদের হিসাবে রমজান শুরুর সম্ভাব্য সময়
সংযুক্ত আরব আমিরাতে জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৭ সনের রমজান মাসের চাঁদ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যোতি র্বৈজ্ঞানিক হিসাব বলছে, যদি নির্দিষ্ট দিনে আকাশে চাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে তার পরদিন থেকেই শুরু হতে পারে পবিত্র রমজান মাস। এই হিসাব অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে রোজা শুরুর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
রমজানের দৈর্ঘ্য নিয়ে সম্ভাব্য হিসাব
ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান মাস সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিনে পূর্ণ হয়। জ্যোতির্বিদদের পূর্বাভাসেও এবার ব্যতিক্রম কিছু নেই। চাঁদের গতিবিধি ও অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বলা হচ্ছে, এবারের রমজান মাসও ২৯ বা ৩০ দিনের মধ্যেই শেষ হতে পারে। তবে কোনটি চূড়ান্ত হবে, তা নির্ভর করবে শেষের চাঁদ দেখার ওপর।
রমজান ২৯ দিনে শেষ হলেও ছুটি নিয়ে স্বস্তির খবর
রমজান মাস যদি ২৯ দিনেই শেষ হয়ে যায়, তবুও ইউএইতে কর্মজীবীদের জন্য রয়েছে বাড়তি স্বস্তির বিষয়। দেশটির সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের ছুটির ক্ষেত্রে ৩০তম দিনটিও যুক্ত করা হয়। ফলে রমজান কম দিনের হলেও ছুটির ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি থাকে না। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মরত মানুষ পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর বাড়তি সুযোগ পান।
ঈদুল ফিতর কবে হতে পারে
রমজান কবে শুরু হচ্ছে এই প্রশ্নের সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও জড়িত, সেটি হলো ঈদুল ফিতর কবে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রমজান শেষে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, ঈদের আগের দিন থেকেই সরকারি ছুটি কার্যকর হতে পারে এবং কয়েকদিন টানা ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য ঈদের ছুটির গুরুত্ব
মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ঈদের ছুটি মানে শুধু বিশ্রাম নয়, এটি আবেগের সঙ্গে জড়িত একটি সময়। কেউ দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেন, কেউ আবার বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ খোঁজেন। তাই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ও ছুটির সময়সূচি আগেভাগে জানা থাকলে ভ্রমণ টিকিট, বাসস্থান এবং অন্যান্য প্রস্তুতি সহজ হয়ে যায়।
২০২৬ সালের ঈদুল আজহা ও দীর্ঘ ছুটির সম্ভাবনা
শুধু রমজান বা ঈদুল ফিতর নয়, আগামী বছরের ঈদুল আজহা নিয়েও আগ্রহ কম নয়। ইউএইর সরকারি ছুটি ক্যালেন্ডারের সম্ভাব্য তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে তুলনামূলক দীর্ঘ ছুটি পাওয়া যেতে পারে। আরাফাত দিবসের সম্ভাব্য তারিখ ও ঈদের মূল দিনের অবস্থান যদি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে টানা কয়েকদিন ছুটি ভোগ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চাঁদ দেখার ওপর কেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে
যদিও জ্যোতির্বিদরা আগাম হিসাব দিয়ে সম্ভাব্য তারিখ জানাচ্ছেন, ইসলামি শরিয়তের মূল ভিত্তি হলো চাঁদ দেখা। তাই রমজান কবে শুরু হচ্ছে বা ঈদ কবে হবে এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর আসে নির্দিষ্ট দিনে চাঁদ দেখার ঘোষণার মাধ্যমে। ইউএইসহ বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম দেশেই সরকারি ভাবে চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
সম্ভাব্য তারিখ জানা থাকলে পরিকল্পনায় সুবিধা
আগাম সম্ভাব্য তারিখ জানা থাকলে কর্মজীবী মানুষ অফিসের ছুটি, ব্যবসায়ীরা লেনদেন, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা এবং পরিবারগুলো সামাজিক আয়োজনের পরিকল্পনা সাজাতে পারেন। বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য এটি মানসিক প্রস্তুতির একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
শেষকথা
রমজান ও ঈদ মুসলিম জীবনের এমন দুটি অধ্যায়, যা শুধু ক্যালেন্ডারের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম, সহমর্মিতা এবং পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য সময়। রমজান কবে শুরু হচ্ছে এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর আগেভাগে জানা থাকায় মানুষ নিজের জীবনকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে, সব হিসাব ও পূর্বাভাসের চেয়েও চাঁদ দেখার ঘোষণাই চূড়ান্ত সত্য।
