আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।

পুরনো ফোনকে নতুনের মতো স্মুথ করুন – অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম

📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম: সময় যত যাচ্ছে, ততই আমাদের অনেকের অ্যান্ড্রয়েড ফোন পুরনো হয়ে যাচ্ছে। এক সময় যে ফোনটি চোখের পলকে অ্যাপ খুলত, এখন সেটাই হালকা কাজেও হ্যাং করে, ল্যাগ দেয়, কখনো আবার একেবারে সাড়া দেয় না। নতুন ফোন কেনা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। ভালো খবর হলো, সঠিক কিছু কৌশল অনুসরণ করলে পুরনো ফোনেও পারফরম্যান্স অনেকটাই ভালো করা যায়। এই লেখায় আমরা বিস্তারিত ভাবে জানবো পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম, যেগুলো বাস্তবেই কাজে দেয়।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কেন হয় সেটা বোঝা জরুরি

ল্যাগ কমানোর আগে ল্যাগ হওয়ার কারণ জানা দরকার। সাধারণত পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে হার্ডওয়্যার সীমিত থাকে, যেমন কম র‍্যাম বা দুর্বল প্রসেসর। সময়ের সাথে সাথে নতুন অ্যাপ আপডেট গুলো বেশি রিসোর্স চায়, যা পুরনো ফোন সহজে সামলাতে পারে না। এছাড়া স্টোরেজ ভর্তি হয়ে গেলে, ব্যাকগ্রাউন্ডে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ চললে বা সফটওয়্যার দীর্ঘদিন আপডেট না হলে ফোন ধীর হয়ে পড়ে। তাই অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম মানে শুধু সেটিংস ঘাঁটা নয়, বরং ফোন ব্যবহারের অভ্যাস বদলানো ও।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করলে ফোন হালকা হয়

অনেক সময় আমরা এমন অনেক অ্যাপ ফোনে রেখে দিই যেগুলো মাসের পর মাস ব্যবহারই করা হয় না। এসব অ্যাপ শুধু স্টোরেজই দখল করে না, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রসেস চালিয়ে র‍্যামও খায়। পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়মের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর ধাপ হলো অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলা। ফোনে যত কম অ্যাপ থাকবে, তত কম চাপ পড়বে সিস্টেমের ওপর, ফলে গতি কিছুটা হলেও বাড়বে।

স্টোরেজ খালি রাখা ল্যাগ কমানোর বড় উপায়

অনেকেই জানেন না যে স্টোরেজ প্রায় ভর্তি থাকলে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ভয়ংকর ভাবে স্লো হয়ে যায়। ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ যখন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পূর্ণ হয়ে যায়, তখন সিস্টেম ঠিকমতো ক্যাশ ফাইল বা অস্থায়ী ডেটা ম্যানেজ করতে পারে না। পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ছবি, ভিডিও ও বড় ফাইল অন্য কোথাও সরিয়ে রাখা বা ডিলিট করা খুব দরকার। এতে ফোনের পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো উন্নত হয়।

ক্যাশ ক্লিয়ার করলে ফোন কিছুটা স্বস্তি পায়

দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে অ্যাপ গুলো অনেক ক্যাশ ডেটা জমা করে রাখে। এই ক্যাশ অনেক সময় উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে, বিশেষ করে পুরনো ফোনে। সেটিংসে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের ক্যাশ ক্লিয়ার করলে ফোন হালকা লাগে। এটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়মের একটি সহজ কিন্তু কার্যকর কৌশল, যা মাসে একবার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

অ্যানিমেশন কমালে ফোন আরও দ্রুত মনে হবে

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যাপ খোলা, স্ক্রিন বদলানো বা মেনু পরিবর্তনের সময় বিভিন্ন অ্যানিমেশন চলে। এই অ্যানিমেশন গুলো দেখতে সুন্দর হলেও পুরনো ফোনে এগুলোই অনেক সময় ল্যাগের কারণ হয়। ডেভেলপার অপশন থেকে অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে দিলে ফোন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত মনে হবে। বাস্তবে গতি সামান্য বাড়লেও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা অনেক স্মুথ হয়, যা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়মের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় একটি টিপস।

লাইভ ওয়ালপেপার ও উইজেট কম ব্যবহার করা ভালো

লাইভ ওয়ালপেপার দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এগুলো সব সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে। একইভাবে অতিরিক্ত উইজেট স্ক্রিনে থাকলে র‍্যাম ও প্রসেসরের ওপর চাপ পড়ে। পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম মেনে চলতে চাইলে সাধারণ স্ট্যাটিক ওয়ালপেপার ব্যবহার করা এবং অপ্রয়োজনীয় উইজেট সরিয়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ।

সিস্টেম ও অ্যাপ আপডেট ঠিকভাবে বেছে নেওয়া দরকার

সব সময় নতুন আপডেট মানেই ভালো পারফরম্যান্স নয়, বিশেষ করে পুরনো ফোনের ক্ষেত্রে। অনেক সময় নতুন সফটওয়্যার আপডেট ফোনকে আরও ধীর করে দেয়। তবে নিরাপত্তা আপডেট উপেক্ষা করাও ঠিক নয়। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম অনুযায়ী বড় সিস্টেম আপডেট দেওয়ার আগে একটু খোঁজ নেওয়া ভালো, সেই আপডেট পুরনো ডিভাইসে কেমন কাজ করছে।

ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ সীমিত করলে ল্যাগ কমে

একসাথে অনেক অ্যাপ খোলা রেখে দিলে পুরনো ফোন দ্রুত স্লো হয়ে যায়। মাল্টিটাস্কিং স্ক্রিন থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ক্লোজ করে রাখলে র‍্যাম ফাঁকা থাকে। এতে ফোনের প্রতিক্রিয়া দ্রুত হয়। যারা প্রতিদিন অনেক অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।

রিস্টার্ট করার ছোট অভ্যাস বড় উপকার করে

অনেকে মাসের পর মাস ফোন রিস্টার্ট করেন না। অথচ সপ্তাহে একবার ফোন রিস্টার্ট করলে অস্থায়ী সমস্যা দূর হয়, র‍্যাম রিফ্রেশ হয় এবং সিস্টেম নতুন করে কাজ শুরু করে। পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়মের মধ্যে এটি সবচেয়ে সহজ কিন্তু অবহেলিত একটি পদ্ধতি।

ফ্যাক্টরি রিসেট শেষ ভরসা হতে পারে

সব চেষ্টা করার পরও যদি ফোন ভীষণ স্লো থাকে, তাহলে ফ্যাক্টরি রিসেট একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। এতে ফোন একদম নতুন অবস্থায় ফিরে যায়। অবশ্যই রিসেটের আগে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ব্যাকআপ নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাক্টরি রিসেটের পর পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও উল্লেখ যোগ্য পারফরম্যান্স উন্নতি দেখা যায়।

শেষ কথা

নতুন ফোন কেনার আগে একবার হলেও পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম গুলো অনুসরণ করে দেখা উচিত। সামান্য যত্ন, সঠিক সেটিংস আর সচেতন ব্যবহারে পুরনো ফোনও আবার ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। হয়তো একেবারে নতুন ফোনের মতো হবে না, কিন্তু দৈনন্দিন কাজের জন্য যথেষ্ট স্মুথ অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব। 

Disclaimer
We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

Affiliate Disclosure
This post may contain affiliate links. We may receive a commission if you make a purchase through these links, at no extra cost to you. For more details, please visit our Disclaimer Page.
আইটি বিতান
Emon

হাই! আমি ইমন, প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ এবং নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি। পাঠকের জন্য সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করাই আমার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। নতুন তথ্য শেয়ার করতে এবং পাঠকদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি।;

Next Post Previous Post
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url