মোবাইলে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করার নিয়ম জেনে রাখুন
📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥
মোবাইলে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করার নিয়ম : বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবন কল্পনাই করা যায় না। বিদ্যুৎ এখন আর শুধু আলো বা ফ্যান চালানোর বিষয় নয়,বরং আধুনিক জীবনের প্রতিটি ধাপেই বিদ্যুৎ জড়িত। কিন্তু বিদ্যুৎ যত দরকারি, এর খরচ নিয়ন্ত্রণ করাও ততটাই জরুরি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ এখনো মাসের শেষে বিল হাতে পাওয়ার পর বুঝতে পারেন, কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে।
তখন আর কিছু করার সুযোগ থাকে না। এই সমস্যার বাস্তব সমাধান হিসেবে সরকার ও বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা গুলো ধাপে ধাপে চালু করেছে প্রিপেইড ও স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার, যেগুলো মোবাইল ফোন দিয়ে মনিটর করা যায়।
তবে অনেকেই জানেন না, কোন মিটার কোন অঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য, আবার কোন অ্যাপ দিয়ে নিজের মিটার দেখতে হবে। ফলে অ্যাপ ডাউনলোড করেও অনেক সময় বিভ্রান্ত হন। এই ব্লগ পোষ্টে মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করার নিয়মের পাশাপাশি বাংলাদেশের অঞ্চলভিত্তিক বিদ্যুৎ অপারেটর, মিটার টাইপ এবং ব্যবহার পদ্ধতি বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হলো।
মোবাইলে মিটার মনিটরিং কিভাবে কাজ করে
প্রিপেইড বা স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার মূলত ডিজিটাল প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই মিটারের ভেতরে এমন একটি সিস্টেম থাকে, যা প্রতিটি বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব ইউনিট আকারে সংরক্ষণ করে। আপনি যখন ঘরে কোনো ইলেকট্রিক যন্ত্র ব্যবহার করেন, তখন সেই তথ্য মিটারে যোগ হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর তা বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সার্ভারে পাঠানো হয়।
আপনি যখন মোবাইল অ্যাপে ঢুকে নিজের মিটার মনিটর করেন, তখন সেই সার্ভার থেকেই আপনার সর্বশেষ ডাটা অ্যাপে দেখানো হয়। এ কারণেই এটি সম্ভব হয় ঘরে বসে, এমনকি বাড়ির বাইরে থেকেও বিদ্যুতের খরচ দেখা।
বাংলাদেশে কোন অঞ্চলে কোন বিদ্যুৎ অপারেটর এবং মিটার ব্যবহার হয়
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা থেকে হলেও বিতরণ ব্যবস্থা অঞ্চল ভিত্তিক। কোন এলাকায় আপনি থাকেন, তার উপর নির্ভর করে আপনার বিদ্যুৎ অপারেটর এবং মিটার সিস্টেম আলাদা হয়।
ঢাকা মহানগরের উত্তর অংশের গ্রাহকরা সাধারণত DESCO (ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি) এর আওতাভুক্ত। যেমন মিরপুর, উত্তরা, গুলশান, বনানী, বারিধারা, ভাষানটেকসহ উত্তর ঢাকার বড় একটি অংশ DESCO পরিচালনা করে। এই এলাকা গুলোতে বর্তমানে ব্যাপকভাবে DESCO প্রিপেইড মিটার ও স্মার্ট মিটার ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলো মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মনিটর করা যায়।
ঢাকা মহানগরের দক্ষিণ অংশের গ্রাহকরা পড়েন DPDC (ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি) এর আওতায়। যেমন ধানমন্ডি, লালবাগ, পুরান ঢাকা, মতিঝিল, শাহবাগ, কেরানীগঞ্জ সংলগ্ন অনেক এলাকা। DPDC এলাকায়ও প্রিপেইড মিটার ও স্মার্ট মিটার চালু রয়েছে এবং আলাদা অফিসিয়াল অ্যাপের মাধ্যমে এই মিটার গুলো মনিটর করা যায়।
ঢাকার বাইরে উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলা যেমন রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া অঞ্চলের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে NESCO (নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি)। এই এলাকায় বর্তমানে ধাপে ধাপে প্রিপেইড মিটার বসানো হচ্ছে এবং সেগুলো মোবাইল দিয়ে মনিটর করার সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
গ্রামাঞ্চল, উপজেলা ও অনেক মফস্বল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। দেশের সবচেয়ে বড় অংশ এই পল্লী বিদ্যুৎ এর আওতায় পড়ে। এখানে প্রিপেইড মিটার বসানোর কাজ দ্রুত গতিতে চলছে এবং এই মিটার গুলো মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মনিটর করা যায়, যা গ্রামাঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর।
কোন মিটার থাকলে মোবাইল দিয়ে মনিটর করা যাবে
আপনার বাসায় যদি পুরনো এনালগ মিটার বা সাধারণ পোস্টপেইড ডিজিটাল মিটার থাকে, তাহলে মোবাইল দিয়ে মনিটর করা সম্ভব নয়। মোবাইল মনিটরিংয়ের জন্য অবশ্যই আপনার মিটার হতে হবে প্রিপেইড মিটার অথবা স্মার্ট মিটার।
প্রিপেইড মিটারে আগে টাকা রিচার্জ করতে হয় এবং সেই টাকার বিপরীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। প্রতিটি ইউনিট ব্যবহারের সাথে সাথে ব্যালেন্স কমে যায়, যা অ্যাপে দেখা যায়। স্মার্ট মিটারে অনেক সময় মাস শেষে বিল হয়, কিন্তু প্রতিদিনের ব্যবহার অ্যাপে দেখা যায়।
মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করার মূল নিয়ম
মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করার জন্য প্রথম নিয়ম হলো, আপনার মিটার নম্বর বা কাস্টমার আইডি সঠিক ভাবে জানা থাকতে হবে। এটি সাধারণত মিটারের কার্ড, রিচার্জ রসিদ বা বিদ্যুৎ অফিস থেকে দেওয়া কাগজে লেখা থাকে।
দ্বিতীয় নিয়ম হলো, আপনার এলাকার বিদ্যুৎ অপারেটরের অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করা। DESCO, DPDC, NESCO ও পল্লী বিদ্যুৎ প্রত্যেকের অ্যাপ আলাদা।
তৃতীয় নিয়ম হলো, অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনের সময় যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করবেন, সেটি অবশ্যই সচল থাকতে হবে। কারণ ভেরিফিকেশন কোড এবং ব্যালেন্স নোটিফিকেশন এই নম্বরেই আসে।
চতুর্থ নিয়ম হলো, নিয়মিত ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। ইন্টারনেট ছাড়া অ্যাপ খুললেও সর্বশেষ তথ্য দেখা যাবে না।
DESCO এলাকার গ্রাহকদের জন্য মোবাইল দিয়ে মিটার মনিটরিং করার নিয়ম
DESCO এলাকায় প্রিপেইড বা স্মার্ট মিটার থাকলে প্রথমে DESCO এর অফিসিয়াল প্রিপেইড মিটার অ্যাপ ইনস্টল করতে হয়। অ্যাপে ঢুকে মিটার নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। ভেরিফিকেশন শেষ হলে লগইন করে বর্তমান ব্যালেন্স, দৈনিক ব্যবহার, মোট ইউনিট এবং রিচার্জ হিস্ট্রি দেখা যায়। এই এলাকায় মোবাইল মনিটরিং খুব কার্যকর, কারণ অ্যাপে ব্যালেন্স কমে গেলে আগেই সতর্কবার্তা পাওয়া যায়।
DPDC এলাকার গ্রাহকদের জন্য মোবাইল মনিটরিং পদ্ধতি
DPDC এলাকার গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াটি প্রায় একই। অফিসিয়াল DPDC প্রিপেইড মিটার অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে লগইন করতে হয়। এখানে প্রতিদিনের ব্যবহার আলাদা করে দেখানো হয়, যা এসি বা হিটার ব্যবহারকারীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক DPDC গ্রাহক এই অ্যাপ ব্যবহার করে বুঝতে পেরেছেন, কোন সময় বিদ্যুৎ খরচ বেশি হচ্ছে।
NESCO ও পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য মোবাইল মনিটরিং
NESCO এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং বিশেষ ভাবে উপকারী। কারণ অনেক সময় মিটার বাড়ির বাইরে বা দূরে বসানো থাকে। অ্যাপে লগইন করলে বর্তমান ব্যালেন্স, আজকের ব্যবহার এবং মোট খরচ সহজেই দেখা যায়। গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য এটি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর একটি বড় মাধ্যম।
শেষকথা,
প্রিয় পাঠক, মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করার নিয়ম এবং কোন মিটার কোন অঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য এই বিষয় গুলো পরিষ্কারভাবে জানলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ অনেক বেড়ে যাবে। DESCO, DPDC, NESCO বা পল্লী বিদ্যুৎ যে অপারেটরের অধীনেই থাকুন না কেন, আপনার যদি প্রিপেইড বা স্মার্ট মিটার থাকে, তাহলে এই সুবিধা ব্যবহার করা উচিত।
এই পদ্ধতি বিদ্যুৎ বিল কমাতে, অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার ঝামেলা থেকে বাঁচতে বাস্তবভাবে সহায়তা করে। নিয়ম মেনে মোবাইল দিয়ে মিটার মনিটরিং করলে বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে আরও পরিকল্পিত ও সাশ্রয়ী। পোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার দিন।


