Blogger.com দিয়ে ব্লগিং শুরু করুন | নতুনদের জন্য সেরা গাইড
📌এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন🔥
কিভাবে Blogger.com এ অ্যাকাউন্ট খুলবেন ও ব্লগ বানাবেন
ব্লগ বানানোর প্রথম ধাপ হলো Blogger.com এ গিয়ে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করা। যদি আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে নতুন করে খুলে নিতে হবে। সাইন ইন করার পর ড্যাশবোর্ডে Create New Blog বাটনে ক্লিক করলে ব্লগ তৈরি শুরু করতে পারবেন। ব্লগের জন্য একটি নাম ঠিক করুন এবং একটি URL নির্বাচন করুন, যেমন yourblogname.blogspot.com। এরপর পছন্দমতো একটি থিম বেছে নিয়ে আপনার ব্লগ তৈরি হয়ে যাবে।
ব্লগের গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস ঠিক করা
ব্লগার ড্যাশবোর্ডে আপনি কিছু মৌলিক সেটিংস ঠিক করতে পারবেন যা ব্লগকে পরিচ্ছন্ন ও পাঠকবান্ধব করে। Basic Settings থেকে ব্লগের নাম, বর্ণনা এবং প্রাইভেসি ঠিক করতে পারবেন। চাইলে ব্লগের ভাষাও পরিবর্তন করা যায়। Post Settings থেকে কমেন্ট চালু বা বন্ধ রাখা যাবে। Permissions অপশন থেকে চাইলে অন্য কাউকে অ্যাডমিন বা লেখক হিসেবে ও যোগ করা সম্ভব।
ব্লগের ডিজাইন সুন্দরভাবে কাস্টমাইজ করা
একটি ব্লগকে আকর্ষণীয় দেখাতে কাস্টমাইজেশন খুব জরুরি। Blogger এর Themes সেকশনে গিয়ে যেকোনো ডিজাইন বেছে নিতে পারবেন। Customize অপশনে গিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড, রং, ফন্ট সবকিছু নিজের মতো করে সাজানো যায়। চাইলে Advanced Settings থেকে CSS ব্যবহার করেও ব্লগের ডিজাইন আরও উন্নত করা যায়।
ব্লগে পোস্ট লেখা ও প্রকাশ করা
পোস্ট লেখা Blogger এ খুবই সহজ। ড্যাশবোর্ড থেকে New Post এ ক্লিক করলে পোস্ট এডিটর ওপেন হবে। সেখানে শিরোনাম ও মূল কনটেন্ট লিখতে পারবেন। ছবি, ভিডিও ও লিঙ্ক যুক্ত করা যায়। পোস্টের শেষে Labels যোগ করলে পাঠকদের জন্য পোস্ট খুঁজে পাওয়া আরও সহজ হবে। নিয়মিত পোস্ট করা ব্লগের গ্রোথের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করা (নিজস্ব .com/.net ডোমেইন)
ব্লগকে আরও প্রফেশনাল দেখাতে অনেকেই কাস্টম ডোমেইন (যেমন: yourblog.com) ব্যবহার করেন। Blogger এ খুব সহজেই কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করা যায়। এজন্য আগে Namecheap, Godaddy বা যেকোনো ডোমেইন রেজিস্ট্রার থেকে ডোমেইন কিনতে হবে। পরে Blogger ড্যাশবোর্ডে Settings → Publishing → Custom Domain এ গিয়ে আপনার ডোমেইনটি লিখে সেভ করবেন। এরপর DNS সেটিংস আপডেট করতে হবে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনার Blogspot URL আপনার নিজস্ব কাস্টম ডোমেইনে কাজ করতে শুরু করবে। কিভাবে কাস্টম ডোমেইন সেটাপ করবেন এইখানে চাপ দিন।
robots.txt – সার্চ ইঞ্জিনকে নির্দেশ দেওয়ার নিয়ম
robots.txt হলো এমন একটি ফাইল যেখানে আপনি সার্চ ইঞ্জিনকে জানান কোন পেজ ক্রল করতে হবে আর কোনগুলো এড়াতে হবে। এটি SEO এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন /search বা /tags পেজগুলো সাধারণত ক্রল না করা ভালো। পাশাপাশি সাইটম্যাপ যুক্ত করলে সার্চ ইঞ্জিন আপনার ব্লগের সব পেজ সহজে খুঁজে পাবে। Blogger-এ Settings → Search Preferences → Custom robots.txt থেকে এটি কনফিগার করা যায়।
গুগল সার্চ কনসোল সেটআপ করা
SEO উন্নত করা এবং ব্লগের পারফরম্যান্স মনিটর করার জন্য Google Search Console খুবই দরকারি টুল। প্রথমে সার্চ কনসোলে গিয়ে আপনার ব্লগের URL Add করতে হবে। মালিকানা যাচাইয়ের জন্য মেটা ট্যাগ দেওয়া হবে, যা ব্লগারের সেটিংসে যোগ করলে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে। এরপর সাইটম্যাপ সাবমিট করলে গুগল সহজেই আপনার ব্লগের পেজগুলো ইনডেক্স করবে।
SEO টিপস – ব্লগকে গুগলে র্যাঙ্ক করাতে যা করবেন
SEO ব্লগ সফল হওয়ার প্রধান উপাদান। প্রতিটি পোস্টের শিরোনাম ও ডিসক্রিপশন কীওয়ার্ডসহ স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। পোস্টের ভেতরে এক পোস্ট থেকে অন্য পোস্টে লিঙ্ক দিলে পাঠক সময় বেশি ব্যয় করে এবং SEO শক্তিশালী হয়। ছবির Alt Text যোগ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটে লিঙ্ক দেওয়া পোস্টের মান বাড়ায়।
Blogger.com এ যেসব ফিচার পাবেন
Blogger এ Monetization ফিচারের মাধ্যমে গুগল অ্যাডসেন্স যুক্ত করে আয় করা যায়। Google Analytics যোগ করলে ট্রাফিক বিশ্লেষণ সহজ হয়। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে ব্লগ কানেক্ট করে পাঠক আরও বাড়ানো যায়।
ব্লগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
ব্লগ নিরাপদ রাখতে গুগল অ্যাকাউন্টে Two-Step Verification চালু রাখা উচিত। এতে ব্লগ এবং গুগল অ্যাকাউন্ট উভয়ই সুরক্ষিত থাকে।
শেষ কথা
Blogger.com একটি সহজ, ফ্রি এবং নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম যেখানে নতুনরা খুব সহজেই নিজের ব্লগ শুরু করতে পারে। প্রথমদিকে কিছু সেটিংস বুঝতে সময় লাগলে ও একবার সব ঠিক করে নিলে এটি ব্যবহার করা খুবই সহজ। নিয়মিত ভালো কনটেন্ট তৈরি এবং SEO ঠিক রাখলে আপনার ব্লগ দ্রুতই সফল হয়ে উঠবে। যদি কিছু বুঝতে সমস্যা হয়, কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।
.png)