নারীরা বেশি ক্লান্ত কেন: ব্যস্ত জীবনযাত্রার মধ্যে অনেক নারী এমন এক ধরনের চাপের মুখোমুখি হন, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। এই মানসিক চাপকে মেন্টাল লোড বলা হয়, যেখানে ঘরের কাজের পরিকল্পনা, পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজন বোঝা এবং প্রতিদিনের ছোট-বড় দায়িত্ব মাথায় রেখে চলতে হয়। এসব কাজ অনেক সময় চোখে পড়ে না, কিন্তু প্রতিনিয়ত মানসিক শক্তি খরচ করে। ফলে দিনের শেষে শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তিও তৈরি হয়।
গবেষণায় যা জানা গেছে
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের প্রফেসর Leah Ruppanner উল্লেখ করেছেন, এই মেন্টাল লোডের নির্দিষ্ট কোনো এক রূপ নেই। এটি বিভিন্নভাবে মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। University of Melbourne এর এই গবেষণায় বলা হয়েছে, পরিবারে দায়িত্ব ভাগাভাগি কিছুটা বাড়লেও নারীরাই এখনো এই অদৃশ্য মানসিক চাপের বড় অংশ বহন করেন। এ কারণেই অনেক সময় তাদের মধ্যে বার্নআউটের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।
মেন্টাল লোডের ভিন্ন ভিন্ন দিক
এই মানসিক চাপ কেবল একটি কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একাধিক দায়িত্বের সমন্বয়। পরিবারের দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা করা, সবার আবেগ বুঝে চলা, সম্পর্কগুলো ঠিক রাখা সবকিছুই এর অংশ। এছাড়া বিশেষ দিনগুলো সুন্দরভাবে আয়োজন করা, পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক যত্ন নেওয়ার চাপও এতে যুক্ত হয়। নিরাপত্তা নিয়ে ভাবনা এবং পরিবার ও সমাজ নিয়ে বড় পরিসরে চিন্তাও এই মানসিক বোঝার অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
মানসিক চাপ কমানোর পথ
গবেষণায় বলা হয়েছে, এই চাপ কমাতে হলে প্রথমেই বুঝতে হবে সব দায়িত্ব একজনের নয়। অনেক নারী নিজের জন্য সময় বা সুযোগ নিলে শুরুতে অপরাধবোধে ভোগেন, কিন্তু পরে তা তাদের মানসিক স্বস্তি এনে দেয়। দায়িত্ব ভাগাভাগি করা এবং নিজের যত্ন নেওয়া এই দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিলে চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নারীদের ক্ষমতায়ন শুধু ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য নয়, এটি পরিবারের ভেতর সম্পর্কের ভারসাম্যও উন্নত করে। যখন দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ হয়, তখন মানসিক চাপও কমে আসে। এই বাস্তবতা থেকেই বোঝা যায়, নারীরা বেশি ক্লান্ত কেন এর পেছনে রয়েছে অদৃশ্য কিন্তু গভীর মানসিক শ্রম, যা প্রতিদিন তাদের ওপর প্রভাব ফেলে।
সূত্র: বিবিসি





