হঠাৎ বন্ধ থাকা এসি চালু করলে কেন ঝুঁকি তৈরি হয়
দীর্ঘ সময় ব্যবহার না হওয়া একটি বন্ধ থাকা এসি ভেতরে নীরবে নানা সমস্যার জন্ম দেয়। ধুলো জমে যায়, আর্দ্রতার কারণে ছত্রাক তৈরি হয়, এমনকি পোকামাকড়ও ভেতরে আশ্রয় নিতে পারে। এর পাশাপাশি ভেতরের বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে এসি চালু করলে শর্ট সার্কিট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা থেকে আগুন লাগতে পারে। শুধু তাই নয়, যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুরো ইউনিট নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।
চালুর আগে যেসব বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি
বন্ধ থাকা এসি চালুর আগে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে কম্প্রেসার ঠিক আছে কিনা, গ্যাসের পরিমাণ সঠিক আছে কিনা এবং ভেতরে কোনো সমস্যা আছে কিনা তা যাচাই করা দরকার। এসির ফিল্টার ও কয়েলে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার না করলে ঠান্ডা কমে যায়, বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয় এবং বাতাসও দূষিত হয়ে পড়ে। বাইরে থাকা ইউনিটেও প্রায়ই ধুলো, পাতা বা পোকামাকড় জমে থাকে, তাই চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং যথেষ্ট খালি জায়গা রাখা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে বৈদ্যুতিক সংযোগ ঢিলা হয়ে যাওয়া বা তারে মরচে পড়ার মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে, যা বিপদের কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্য ও খরচ-দুই দিকেই প্রভাব ফেলে
নোংরা বা অযত্নে থাকা এসি শুধু যন্ত্রের ক্ষতি করে না, মানুষের শরীরেও প্রভাব ফেলে। ভেতরে থাকা ছত্রাক থেকে বাতাসে বাজে গন্ধ আসতে পারে এবং তা শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বস্তি তৈরি করে। এর ফলে অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট বা নাক-গলার সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, ময়লা জমে থাকলে এসিকে বেশি সময় চালাতে হয় এবং কম্প্রেসারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যার কারণে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যায়।
চালুর পর সতর্ক সংকেতগুলো অবহেলা করবেন না
এসি চালু করার পর যদি অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়, পোড়া গন্ধ আসে বা প্রত্যাশিত ঠান্ডা না পাওয়া যায়, তাহলে সেটি স্বাভাবিক নয়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত এসি বন্ধ করে দেওয়া এবং টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। একটু অসাবধানতা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তাই বন্ধ থাকা এসি ব্যবহার করার সময় শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।






