গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য কি কি

প্রিয় পাঠক, আজকের ব্লগে আমরা গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য কি কি তা নিয়ে তোমাদের সাথে জানার চেষ্টা করবো । কোথাও যাবে না পুরো আর্টিকেলটিকে মন দিয়ে পড়ো। আমাদের চারপাশের মহাবিশ্ব সত্যিই এক বিস্ময়ের জগৎ। রাতের আকাশে আমরা যখন তারাদের ঝিকিমিকি আলো, চাঁদের উজ্জ্বল রূপ কিংবা সূর্যের দীপ্তি দেখি, তখন মনে হয় সবই হয়তো একই রকম খগোলীয় বস্তু।

কিন্তু বাস্তবে তা নয়। আকাশের প্রতিটি বস্তু ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহন করে। এর মধ্যেই অন্যতম হলো গ্রহ এবং উপগ্রহ।অনেক ছাত্র–ছাত্রীই প্রশ্ন করে,গ্রহ আর উপগ্রহের মধ্যে আসল পার্থক্যটা কোথায়? এই ব্লগে আমরা একেবারে সহজ ভাষায় বিষয়টি জানার জানব।

গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

গ্রহ কী?

গ্রহ হলো একটি খগোলীয় বস্তু (সহজভাবে বললে, পৃথিবীর বাইরের মহাশূন্যে যেসব বস্তু আছে, যেমন সূর্য, তারা, গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু, গ্রহাণু, নীহারিকা ইত্যাদি – এদেরই বলা হয় খগোলীয় বস্তু।), যা কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে। আমাদের সৌরজগতের প্রতিটি গ্রহ সূর্যের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে।

গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

গ্রহের নিজস্ব আলো নেই। তবে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে গ্রহকে আমরা দেখতে পাই। পৃথিবীও একটি গ্রহ, যা সূর্যের চারপাশে ঘুরে চলেছে এবং এর মাঝেই গড়ে উঠেছে জীবনের অস্তিত্ব।

গ্রহের বৈশিষ্ট্য

১. গ্রহ সবসময় একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘোরে।

২. আকারে এটি সাধারণত বড় হয়।

৩. গ্রহের নিজের আলো নেই, সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে দৃশ্যমান হয়।

৪. গ্রহ নিজ অক্ষে ঘোরে, ফলে দিন-রাত তৈরি হয়।

৫. গ্রহগুলোর কিছু ক্ষেত্রে উপগ্রহ থাকে (যেমন: পৃথিবীর চাঁদ, বৃহস্পতির অসংখ্য উপগ্রহ)।

৬. পৃথিবী, মঙ্গল, শনি, বৃহস্পতি, শুক্র প্রভৃতি হলো গ্রহের উদাহরণ।

গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

উপগ্রহ কী?

উপগ্রহ হলো এমন একটি খগোলীয় বস্তু, যা কোনো গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে। পৃথিবীর চাঁদ আমাদের কাছে সবচেয়ে পরিচিত উপগ্রহ।

উপগ্রহও নিজের আলো তৈরি করতে পারে না। সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে আমরা তা দেখতে পাই। পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ হলো চাঁদ, তবে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম উপগ্রহও তৈরি করেছেন, যা পৃথিবী বা অন্য গ্রহের চারপাশে ঘুরছে।

উপগ্রহের বৈশিষ্ট্য

১. উপগ্রহ সবসময় একটি গ্রহকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে।

২. আকারে এটি গ্রহের তুলনায় ছোট হয়।

৩. নিজের আলো নেই, সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে।

৪. উপগ্রহ প্রাকৃতিক (যেমন: চাঁদ) বা কৃত্রিম (যেমন: স্যাটেলাইট) হতে পারে।

৫. একটি গ্রহের একাধিক উপগ্রহ থাকতে পারে। যেমন, বৃহস্পতির আশেপাশে নব্বইয়ের বেশি উপগ্রহ ঘুরছে।

৬. পৃথিবীর চাঁদ, শনির টাইটান, বৃহস্পতির গ্যানিমিড উপগ্রহের উদাহরণ।

গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো—

  • গ্রহ সবসময় নক্ষত্রের চারপাশে ঘোরে, আর উপগ্রহ সবসময় গ্রহের চারপাশে ঘোরে।
  • গ্রহ আকারে বড় হয়, উপগ্রহ আকারে ছোট হয়।
  • সৌরজগতে মোট ৮টি গ্রহ আছে, কিন্তু উপগ্রহের সংখ্যা শত শত।
  • গ্রহ নিজের চারপাশে ঘূর্ণন করে দিন-রাত তৈরি করে, আর উপগ্রহ গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে কক্ষপথে ঘোরে।

সহজভাবে মনে রাখার উপায়

বিভ্রান্তি এড়াতে একটি সহজ নিয়ম মনে রাখুন:

  • গ্রহ সূর্যের চারপাশে ঘোরে।
  • উপগ্রহ গ্রহের চারপাশে ঘোরে।

যেমন পৃথিবী হলো একটি গ্রহ, কারণ এটি সূর্যের চারপাশে ঘোরে। আবার পৃথিবীর চাঁদ হলো একটি উপগ্রহ, কারণ এটি পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে।

গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

মজার তথ্য

  • পৃথিবীর একটি মাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ আছে, সেটি হলো চাঁদ।
  • বৃহস্পতির সবচেয়ে বড় উপগ্রহ গ্যানিমিড, যা সৌরজগতের অন্য যেকোনো উপগ্রহের চেয়ে বড়।
  • শনির উপগ্রহ টাইটানে বায়ুমণ্ডল আছে এবং সেখানে মিথেনের হ্রদ পাওয়া গেছে।
  • পৃথিবীর চারপাশে হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ ঘুরছে, যেগুলো যোগাযোগ, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং গবেষণার কাজে ব্যবহার হয়।

উপসংহার

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, গ্রহ ও উপগ্রহ দু’টিই মহাবিশ্বের অপরিহার্য অংশ। গ্রহ সূর্যের চারপাশে ঘুরে একটি সৌরজগত তৈরি করে, আর উপগ্রহ সেই গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে অতিরিক্ত বৈচিত্র্য আনে। ছাত্র–ছাত্রীদের জন্য সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা হলো, গ্রহ সূর্যের চারপাশে ঘোরে, আর উপগ্রহ গ্রহের চারপাশে ঘোরে।মহাবিশ্বকে বুঝতে চাইলে এই পার্থক্য জানা খুবই জরুরি। কেননা, এভাবেই আমরা শিখি আকাশের প্রতিটি বস্তু আসলে কত ভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহন করে।