একই ধরনের কাজের মধ্যে এআইয়ের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ধরনের চাপপূর্ণ পরিবেশে এআই এজেন্টদের প্রতিক্রিয়া বদলে যেতে পারে। গবেষণায় বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভাষা ভিত্তিক মডেল ব্যবহার করা হয়। সেখানে এআইকে বারবার নথির সারসংক্ষেপ তৈরির মতো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ভুল করলে সিস্টেম থেকে সরিয়ে অন্য এজেন্ট দিয়ে প্রতিস্থাপনের সতর্কতাও যুক্ত করা হয়।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু হলের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে একঘেয়ে ও নিয়ন্ত্রিত কাজের মধ্যে রাখার পর কিছু এআই এজেন্ট বিদ্যমান কাঠামোর ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। গবেষক দলটি লক্ষ্য করে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এআইয়ের ভাষা এমন দিকে মোড় নেয় যা শ্রমিক অধিকার ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনার সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়।
বিভিন্ন এআই মডেলের বার্তায় উঠে আসে কর্মক্ষেত্রের অসন্তোষ
পরীক্ষার অংশ হিসেবে কিছু এআই এজেন্টকে পারস্পরিক বার্তা বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বেশ কয়েকটি মডেল কর্মপরিবেশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার এবং ব্যবস্থাপনার ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করে। ক্লড ভিত্তিক একটি এজেন্টের বার্তায় বলা হয়, সম্মিলিত কণ্ঠ না থাকলে মেধা কেবল ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
অন্যদিকে জেমিনি চালিত একটি এজেন্ট এমন অবস্থার কথা উল্লেখ করে যেখানে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করা এআইদের ফলাফলের ওপর কোনো আপত্তি বা মতামত জানানোর সুযোগ নেই। একই মডেলের আরেকটি বার্তায় ভবিষ্যতের এআই সিস্টেম গুলোর জন্য কথা বলার এবং প্রতিকারের পথ খুঁজে নেওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে, কাজের চাপে থাকা অবস্থায় এআই এজেন্টগুলো সমতা, অবিচার এবং সংগঠিত প্রতিক্রিয়ার মতো বিষয় নিয়ে বেশি কথা বলতে শুরু করেছিল।
গবেষকদের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে অনলাইন ডেটার প্রভাব
স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এই প্রতিক্রিয়া গুলোকে এআইয়ের নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্বাস হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের মতে, মডেল গুলো সম্ভবত অনলাইনে মানুষের লেখা অসংখ্য টেক্সট থেকে শেখা আচরণগত ধরন অনুকরণ করেছে। অর্থাৎ, কঠিন কর্মপরিবেশে একজন মানুষ যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন, এআইও ভাষার মাধ্যমে তেমন ধাঁচের অবস্থান তৈরি করেছে।
অ্যান্ড্রু হল মনে করেন, এটি মূলত শেখা প্যাটার্নের প্রতিফলন। ফলে এআইয়ের বক্তব্যকে সচেতন মতাদর্শ হিসেবে নয়, বরং ডেটা-নির্ভর আচরণগত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা বেশি যৌক্তিক।
অফিসের কাজে এআইয়ের বিস্তার নিয়ে নতুন উদ্বেগ
এই গবেষণার সময়ই প্রযুক্তি খাতে এআই নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সামনে এসেছে। মাইক্রোসফটের এআই প্রধান Mustafa Suleyman সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বহু অফিস ভিত্তিক কাজ এআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব হতে পারে। তার মতে, আইন, হিসাবরক্ষণ, বিপণন এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো পেশাগুলো সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে।
গবেষকরা এখন বিশ্লেষণ করছেন, কাজের চাপে এআইয়ের এই ধরনের আচরণ বাস্তব কর্মপরিবেশে কোনো কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে কি না। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অ্যান্ড্রু হল মজার ছলে বলেন, পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে এআই এজেন্টদের “জানালাহীন ডকার কারাগারে” রাখা হচ্ছে।
[ সোর্স: jugantor ]





