বাংলাদেশে প্রথম সরকারি MVNO সিম চালু, বিটিসিএলের সিমে আনলিমিটেড কল ও ডেটা সুবিধা

সরকারি MVNO সিম চালু

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে MVNO সিম চালু হয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি অপারেটরদের দখলে থাকা মোবাইল বাজারে এই সংযোজনকে টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই সেবায় গ্রাহকদের জন্য রাখা হয়েছে আনলিমিটেড ভয়েস কল ও মোবাইল ডেটা, পাশাপাশি একাধিক ডিজিটাল সুবিধা একসঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ।

পরীক্ষামূলক সেবা কীভাবে চলছে

রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিটিসিএল এমভিএনও সেবার লাইভ পাইলট কার্যক্রম চালু হয়েছে। এর আগে গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিটিসিএল পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও নেটওয়ার্ক পরিচালনার অনুমোদন পায়। ৩ ফেব্রুয়ারি টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বিটিসিএলের প্রথম এমভিএনও সিম সফলভাবে সচল হয়েছে এবং কল টেস্ট ও প্রয়োজনীয় প্রভিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। এই ধাপ সফল হলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সেবাটি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কোন নেটওয়ার্ক ও কী ধরনের সুবিধা

এমভিএনও মডেল অনুযায়ী বিটিসিএলের নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নেই। প্রাথমিকভাবে এই MVNO সিম টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ভয়েস কল, মোবাইল ডেটা, ডেটা কলিং, আলাপ টু মোবাইল নেটওয়ার্ক, আলাপ টু আলাপ এবং জিপন ইন্টিগ্রেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি কোয়াড-প্লে সুবিধার আওতায় আনলিমিটেড ভয়েস, আনলিমিটেড মোবাইল ইন্টারনেট, জিপন সংযোগসহ ব্রডব্যান্ড এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ও OTT সেবা যুক্ত করা হয়েছে। এখানে অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা ‘আলাপ’ এবং টফি প্ল্যাটফর্মের নাটক ও সিনেমা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গ্রাহক ও বাজারে প্রভাব

এমভিএনও এমন একটি সেবা ব্যবস্থা যেখানে অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কম খরচে মোবাইল সেবা দেওয়া যায়। বিশ্বব্যাপী এই মডেল বহু বছর ধরেই চালু রয়েছে এবং কম দামে কল ও ডেটা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বিটিসিএল নিজেকে একটি ফুল এমভিএনও হিসেবে গড়ে তুলছে, যার মানে নিজস্ব সিম, নাম্বার সিরিজ, আলাদা ব্র্যান্ডিং ও কাস্টমার সাপোর্টের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সক্ষমতা থাকবে। বিটিসিএলের লক্ষ্য হলো সর্বনিম্ন মূল্যে মানসম্মত ও উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ভয়েস সেবা দেওয়া। পরীক্ষামূলক ধাপ শেষে এই MVNO সিম বাজারে এলে গ্রাহকদের জন্য নতুন একটি বিকল্প তৈরি হবে এবং টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।